নওগাঁর মান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অন্তত ৫৫টি ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার প্রসাদপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কামারকুড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী আলহাজ সহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আক্তার হামিদ সোনারের ছেলে মতিউর রহমান (৩২) ও দেলোয়ার হোসেন (৩৮)।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারকুড়ি মৌজার ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের ৭৩২ দাগের ২০ শতাংশ জমি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটি কেনার পর থেকে সহিদুল ইসলাম ভোগদখলে আছেন। এ অবস্থায় ওই জমিতে তিনি ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির একপাশ দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা বের করার চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে জমিতে রোপণ করা অন্তত ৫৫টি ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়। এর আগেও একই ধরনের ক্ষতিসাধন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিবাদীরা আমার কেনা জমির দাতা বা গ্রহীতা কোনোটিই নয়। তারা অন্যায়ভাবে আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার দাবি করে আসছে। রাস্তা না দেওয়ায় তারা বিভিন্ন সময় আমার ওপর অত্যাচার করছে। ইতিপূর্বেও তারা রাতের অন্ধকারে আমার দোকানঘরের দেয়াল ভেঙে রাস্তা বের করার চেষ্টা করেছিল। ব্যর্থ হয়ে এবার তারা আমার রোপণ করা গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

সহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিবাদীপক্ষ এই জমি নিয়ে নওগাঁ আদালতে ৪টি মামলা করেন। এর মধ্যে ৩টিতেই আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। একটি মামলা চলমান।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মতিউর রহমান গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই জমিতে রোপণ করা গাছ কে বা কারা কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। ওই জমি নিয়ে নওগাঁ আমলি আদালতে একটি মামলাও চলছে। আমরা কোনো গাছ কাটিনি।’

মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’