আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আট ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবক হবেন-এমন ইচ্ছা থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ভোটারদের কাছে ছুটছেন। দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে বিরামহীন প্রচার। তবে এখনো দলীয় প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্ত করেনি বিএনপি।

অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে জামায়াতের দুই-একজন নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে সামাজিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কিছু নেতা মাঠে আছেন। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু প্রার্থী নীরবে চালাচ্ছেন প্রচার।

লাকসামের সবচেয়ে গুরুত্বপূণ ইউনিয়ন হলো মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম, বিএনপি নেতা আনিছুর রহমান দুলাল, কাজী আবদুর রশিদ, খোরশেদ আলম, শাহীদুল ইসলাম সাহেদ, নাজমুল রশিদ রয়েল ও খোরশেদ আলম। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন নুরে আলম। সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন আবদুল মান্নান। বাকই দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন-বিএনপি নেতা মিনহাজ উদ্দিন মানিক, যুবদল ওমর ফারুক, বিএনপি নেতা কবির আহমেদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, তারিকুল ইসলাম বাবুল, আনোয়ার হোসেন ও জহিরুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন রেজওয়ান ছিদ্দিকী। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান মাস্টার শাহরিয়ার ইকবাল মজুমদার।

মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সিরাজ মিয়া, নুরনবী মজুমদার, মাসুদ রানা মাসুদ ও সৈয়দ হোসেন শহিদ। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমরান হোসাইন, মাজহারুল ইসলাম রফিক ও বিল্লাল হোসেন।

কান্দিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপি নেতা নুর হোসেন, হারুন রশীদ, মো. সেলিম রানা ও আবুল হাশেম সওদাগর। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হাফেজ আবু হানিফ ও মাওলানা নজরুল ইসলাম।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শাহিন মিয়া, মাসুদ রানা বেলাল, আজহারুল ইসলাম খোকা, মোহাম্মদ শাহীন, আবদুল বারি (বারেক) ও জাহাঙ্গীর আলম। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী আবুল বাসার ও সাখাওয়াত হোসেন ফখরুল।

উত্তরদা ইউনিয়ন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আলী হোসেন আলম, ইসহাক মিয়া, সাইফুল ইসলাম, আহছানউল্লা, দিদার হোসেন, মোনায়েম হোসেন ভুঁইয়া ও ইসমাইল হোসেন। সম্ভব্য স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদুল ইসলাম। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন ফরিদুল হক।

আজগরা ইউনিয়ন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুস ছালাম, টি আর হারুন, রাসেল আহমেদ, শফিকুর ইসলাম রিপন। জামায়াতের প্রার্থী সহিদ উল্লাহ মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন।

লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নে একক প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল। জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন নিজাম উদ্দিন মহাসিন।

সাধারণ ভোটারদের দাবি, সৎ যোগ্য বিশেষ করে যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন; রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নাগরিক সুবিধায় কাজ করবেন-এমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

লাকসাম উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা শিগ্গিরই ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করব।

লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল যুগান্তরকে বলেন, ব্যক্তি ইমেজ ভালো-এরকম প্রার্থীদের দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

এনসিপির লাকসাম উপজেলার আহ্বায়ক আল মাহমুদ ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা এককভাবে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার থাকবে।