রং, রেখা ও সুরের এক অনন্য সাধক শিল্পী হ্যারল্ড রশীদ চৌধুরী। চিত্রকলা ও সংগীত—দুই ধারার সৃজনশীলতায় তিনি হয়ে উঠেছেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব। আজ মঙ্গলবার তাঁর ৭০তম জন্মদিন ঘিরে শুভানুধ্যায়ীরা সিলেটে এক আনন্দ-আয়োজন করেন।
বিকেল পাঁচটায় নগরের টিবিগেট এলাকার শাহ আলম গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে ‘সত্তরে হ্যারল্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শিল্পী হ্যারল্ড রশীদের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, শিল্পী-আড্ডা, স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এতে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী হ্যারল্ড রশীদকে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটেন দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী আবুল বারক্ আল্ভী, অধ্যাপক নিসার হোসেন ও অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য এবং সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। পরে শিল্পীর জীবন ও কর্মভিত্তিক একটা প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুল বাসিত শেরো। স্বাগত বক্তব্য দেন সদস্যসচিব আবদুল করিম চৌধুরী কিম। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশন সিলেটের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, নাট্যব্যক্তিত্ব মু. আনোয়ার হোসেন রনি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী রাণাকুমার সিনহা, প্রতীক এন্দ, শামীম আহমদ, অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম অনি ও সুদীপ্তা পাল শাঁওলী গান পরিবেশন করেন। আবৃত্তি করেন সুকান্ত গুপ্ত।
জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী হ্যারল্ড রশীদের একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শাহ আলম গ্যালারি অব ফাইন আটর্সে এ প্রদর্শনী চলছে। ওই দিন বেলা পাঁচটায় শিল্পীর উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। এটিই তাঁর প্রথম একক কোনো চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন।
উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী আবুল বারক্ আল্ভী, নিসার হোসেন ও শিশির ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস। উদ্যাপন পরিষদের সদস্যসচিব আবদুল করিম চৌধুরী কিমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক শামসুল বাসিত শেরো।
অনুষ্ঠানে আবুল বারক্ আল্ভী বলেন, ‘একজন এত বড় গুণী শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বাইরে নিভৃতে শিল্পচর্চা করে ৭০ বছর বয়সে এসে প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন, এমন ঘটনা বিরল।’
নিসার হোসেন বলেন, ‘হ্যারল্ড রশীদের বিচরণ শিল্পের নানা শাখায়। চিত্রকলা থেকে সংগীত, সব ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা রয়েছে। বর্তমানে অনেকেই যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক, ঢাকাকেন্দ্রিক হতে চান। অথচ হ্যারল্ড রশীদের মতো একজন গুণী শিল্পী ঢাকা ছেড়ে সিলেটে থেকে শিল্পচর্চা ও শিল্পবিকাশে কাজ করছেন।’

শিশির ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘এখন আধুনিক শিল্পীরা যা করছেন, এআই দিয়ে যা করা হচ্ছে, হ্যারল্ড রশীদ তা আশির দশকেই করে ফেলেছেন। কার্টুন আমাকে অনেকের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। এখানে এসে দেখলাম হ্যারল্ড রশীদও প্রচুর কার্টুন এঁকেছেন। তিনি আমাদের শিল্পকলায় আরও অনেক অবদান রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।’
নিজের অনুভূতি জানিয়ে শিল্পী হ্যারল্ড রশীদ বলেন, ‘আমি আগে কখনো একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করিনি। আমার সত্তরতম জন্মদিনে কিছু সুহৃদ ও অনুরাগী এই আয়োজন করেছেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনী শেষ হবে বুধবার। প্রদর্শনীতে হ্যারল্ড রশীদের ৭০টি চিত্রকর্ম এবং ১৫০টি কার্টুন ঠাঁই পেয়েছে।
এ ছাড়া নগরের কুমারপাড়া এলাকার সিলেট আর্টস কলেজে হ্যারল্ড রশীদের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত চিত্র প্রদর্শনী হবে। বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী চলবে।








