জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপ মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। আদালত তার কার্যকালের শেষ দিনে মঙ্গলবার অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এক রায়ে ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেন। এতে বলা হয়-যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নিয়ে কঠোর হওয়ার অঙ্গীকার করে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটি বড় ধাক্কা। ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউজে তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় অবস্থানরত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালতগুলো এ পদক্ষেপটি আটকে দেন। তারা রায় দেন-সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব বিষয়ক ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক।

সুপ্রিমকোর্ট প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবার্টস লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানরত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আইনগত এখতিয়ারের আওতাধীন’ এবং ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব বিষয়ক ধারা অনুযায়ী তারা জন্মসূত্রেই নাগরিক।

ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প নিজে এপ্রিলে সুপ্রিমকোর্টে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিলের এ প্রচেষ্টাটি ছিল অভিবাসন সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ। এ প্রচারণার আওতায় লাখ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের ট্রাম্পের প্রচেষ্টা সুপ্রিমকোর্টে প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি তার বর্তমান মেয়াদে তৃতীয় বড় পরাজয়।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতিরা তার বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের অধিকাংশ পদক্ষেপ বাতিল করেন এবং সোমবার তারা ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের উদ্যোগ আটকে দেন।