জার্মানির খেলা আমাকে সত্যিই হতাশ করেছে। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে গোল করতে না পারাটা। যে আক্রমণভাগকে এত দিন দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করা হতো, সেটিই যেন মুখথুবড়ে পড়েছে। সুযোগ তৈরি করেও সেই ধার আর দেখা যায়নি। তাদের বিপক্ষে শেষ ৩২-এ দারুণ একটি ম্যাচ উপহার দিয়েছে প্যারাগুয়ে। তাদের অভিনন্দন প্রাপ্য। তাদের দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি এই জয়। শুরু থেকেই তারা অসাধারণ পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছে। বিশেষ করে জার্মানির আক্রমণভাগকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে দেয়নি। প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়াই ছিল তাদের কৌশল। সেটি তারা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, পুরো ম্যাচে তারা স্নায়ুর ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছে। নকআউটের মঞ্চে এটাই বড় দলের পরিচয়।
ব্রাজিলের জয় প্রত্যাশিতই ছিল। সেটা সহজভাবে হয়নি। ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে প্রচণ্ড চাপে রাখে জাপান। জাপান যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তারা আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে। একসময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা জাপানের লিগে খেলে সেদেশের ফুটবলের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আরও গোল করতে পারত। জাপানের সংগঠিত রক্ষণ তাদের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দেয়নি। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিলকে। সেখানে শুধু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত খেলছে, পুরো চাপ যেন তার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ জিততে হলে পুরো দলকেই সমান দায়িত্ব নিতে হবে।
মরক্কোর জয়কে আমি বড় চমকই বলব। ফিফা র্যাংকিংয়ে দুই দলের অবস্থান কাছাকাছি হলেও অধিকাংশ মানুষ নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে রেখেছিল। মরক্কো অসাধারণ ফুটবল খেলেছে। গতি, শৃঙ্খলা, ছন্দ এবং লড়াইয়ের মানসিকতায় তারা প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে গেছে। দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার যে মানসিকতা তারা দেখিয়েছে, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে, সেটির প্রমাণ তারা এরই মধ্যে দিয়েছে।
আজ সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়াম এগিয়ে। সেনেগাল সহজে হার মানার দল নয়। তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেবে এবং কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তার পরও বেলজিয়াম দলে এমন ফুটবলার আছেন, যারা এক মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। রোমেলু লুকাকু যতক্ষণ মাঠে থাকবেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ততক্ষণ চাপের মধ্যেই থাকবে। আর কেভিন ডি ব্রুইনার মতো একজন সৃজনশীল মিডফিল্ডার যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। অন্য ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। কাগজে-কলমে তারা স্পষ্ট ফেভারিট। তবে নকআউটপর্বে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই ম্যাচ দিয়েই ইংল্যান্ডকে নিজেদের আরও গুছিয়ে নিতে হবে। অধিনায়ক হ্যারি কেইন দলের নেতা হিসাবে সেই দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করবেন হয়তো।








