জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞ আইরিন খান। তাকে ওই পদে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি ওই পদে থাকাকালীন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বেতন, ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা ও বেতনে আগামী দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
আইরিন খান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবাধিকার, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসাবে সুপরিচিত। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ দূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন আইরিন খান। বর্তমানে তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংস্থাটির প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বেই অ্যামনেস্টি বিশ্বব্যাপী নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রচারণামূলক কাজ শুরু করে।
২০১২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে ‘সিডনি পিস প্রাইজ’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আইরিন খানের সুদীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে দক্ষতা বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।







