জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) কাছ থেকে ‘স্পেশাল কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস’ বা ‘বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা’ অর্জন করেছে বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশন (এইচএসএফ)।
সম্প্রতি ইকোসক’র পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ স্বীকৃতির বিষয়টি জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন জাতিসংঘের এনজিওবিষয়ক কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসএফ-কে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ অর্জনের জন্য সংস্থাটিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
এ মর্যাদা অর্জনের ফলে এখন থেকে এইচএসএফ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থা ও কমিটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, সংস্থাটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল, সাধারণ পরিষদের নির্দিষ্ট কিছু সভা এবং জাতিসংঘ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল উদ্যমী তরুণের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশন। আর্তমানবতার সেবা ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই এ সংস্থার মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠার বছরেই জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধিত হওয়ার পর, ২০২২ সালে সংস্থাটি এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন লাভ করে।
সংস্থাটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যায়, রাজধানীর হাজারীবাগ ও উত্তরায় স্থায়ী স্কুলের মাধ্যমে ৪৫৩ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। এর আগে তারা ঢাকার চারটি স্থানে ভাসমান স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতেও এইচএসএফ’র অবদান উল্লেখযোগ্য। বগুড়া, মানিকগঞ্জ, নড়াইল, ময়মনসিংহ এবং হবিগঞ্জে নিয়মিত মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এসব ক্যাম্প থেকে এমবিবিএস চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ নিয়েছেন, যার ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়ায় হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ মুকিত সংস্থাটির সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এসইউজে/এমকেআর








