মডেল-অভিনেতা ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী হিসেবে পরিচিত আদনান আজাদ এবার যুক্ত হলেন জাতীয় বন্যপ্রাণী কমিশনে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত জাতীয় বন্যপ্রাণী কমিশনের সদস্য হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। 

একসময় চলচ্চিত্রে দেখা গেলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত আদনান আজাদ। তবে অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আলোকচিত্র নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার তোলা বন্যপ্রাণীর ছবি প্রকাশিত হয়েছে দেশের প্রায় সবকটি প্রধান সংবাদপত্রে। পাশাপাশি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, বিবিসি আর্থের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও তার কাজ স্থান পেয়েছে। 

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতেও সক্রিয় আদনান। তিনি বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার (এসডব্লিউএএন)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

রবিবার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জাতীয় বন্যপ্রাণী কমিশনের প্রথম সভায় তাকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী (প্রশাসন) শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে গঠিত জাতীয় বন্যপ্রাণী কমিশনে মোট সদস্য রয়েছেন নয়জন। 

কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—প্রধান বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, পরিবেশবিদ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আশরাফুল হক নোবেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনিরুল এইচ খান, গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাত এবং মো. জুলকার নাইন। 

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় বন্যপ্রাণী কমিশনে যুক্ত হওয়াকে আদনান আজাদের ক্যারিয়ারের নতুন গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

চলচ্চিত্র ছাড়া টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন আদনান আজাদ। মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছেন।