‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াল পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায়। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন আইনজীবীকে ধাক্কাধাক্কি করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এ ঘটনা ঘটে বলে আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলা ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে। আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা ২৪ জনকে আদালতে হাজির করা হয়ে। তাঁদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও চারজন নারী। পুলিশের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামে একটি সংগঠনের ভার্চ্যুয়াল সভায় যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনাসহ অন্যরা রাষ্ট্রবিরোধী এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মামলার শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী, কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁরা মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুকসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন আইনজীবীকে ধাক্কা দিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যান তাঁরা।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তাঁদের আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের স্লোগান বা বিশৃঙ্খলা না করতে বলা হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবী নেতা মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক কয়েকজন আইনজীবী ও বাইরের কয়েকজন মিছিল করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে তাঁদের সমিতি ভবনে আনা হয়েছিল। পরে তাঁদের সতর্ক করে মৌখিকভাবে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেন ভবিষ্যতে এমন কোনো কাজ না করেন।

তবে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুক দাবি করছেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে নয়।

নিহার হোসেন ফারুক বলেন, ব্যক্তিগত লেনদেন–সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। কিছুদিন ওই আইনজীবীরা একজনের সঙ্গে ঝামেলা করে তাদের এলাকার প্রভাব খাটিয়ে। সবাই বসে সেটা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধাক্কাধাক্কি করে নিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা এমন কোনো বিষয় নয়। এখানে তো নিষিদ্ধ সংগঠন, জয় বাংলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, তারা এটা করল কেন? এরা এর আগে আমাদের কিছু আইনজীবীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।’

২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। দলটির সমর্থকেরা বিভিন্ন সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের চেষ্টা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়ছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর