চুলের ফ্যাশনে কখনো কখনো এমন কিছু ট্রেন্ড আসে, যা শুধু নতুন লুক নয়, বরং একটি নতুন জীবনধারা তৈরি করে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ হেয়ারকাট। আর এই ট্রেন্ডকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছেন হলিউড অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ।

নামের মধ্যে ‘বয়ফ্রেন্ড’ থাকলেও এই হেয়ারকাটের অর্থ কারও স্টাইল নকল করা নয়। বরং এটি এসেছে ‘বয়ফ্রেন্ড জিন্স’-এর মতো আরামদায়ক, এফোর্টরেস এবং রিল্যাক্সড ফ্যাশন ভাবনা থেকে। অর্থাৎ এমন একটি স্টাইল, যা দেখতে পরিপাটি কিন্তু সাজে অতিরিক্ত নয়।

পেনেলোপে ক্রুজের নতুন এই কাটটি ঠিক সেই অনুভূতিই তৈরি করছে। কাঁধ ছুঁই ছুঁই দৈর্ঘ্যের এই বব কাটে রয়েছে স্বাভাবিক মুভমেন্ট, হালকা টেক্সচার এবং এক ধরনের সহজ সৌন্দর্য। তার এই লুক তৈরি করেছেন হেয়ারস্টাইলিস্ট দিমিসট্রিস গিয়ানিটোস, যিনি চেয়েছিলেন অভিনেত্রীর চুল যেন থাকে স্বাভাবিক, আরামদায়ক এবং তার পোশাকের মতোই এফোর্টলেস।

নিশ্চিতভাবে বলতে গেলে, ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ এখনো একটি একক “অফিশিয়াল সেলিব্রিটি লিস্টেড ট্রেন্ড’’ হিসেবে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়নি। তবে হলিউডের বিভিন্ন স্টাইল আইকন ও ফ্যাশন ফিগারদের মধ্যে ছোট, রিলাক্সড বব, টেক্সচারড বব ও এফোর্টলেস শর্ট হেয়ার–এর যে ঢেউ চলছে, সেটাকেই এই ট্রেন্ডের অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

‘বয়ফ্রেন্ড বব’ সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো একক হেয়ারকাট কোড না হলেও। এর রিলাক্সড, এফোর্টলেস ও লো মেইনটেন্স সৌন্দর্য ইতিমধ্যেই হলিউডের অনেক তারকার স্টাইলে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

এই ট্রেন্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি লুক নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন লিলি কোলিনস, যিনি বিভিন্ন সময়ে ছোট বব ও ন্যাচারাল টেক্সচারের চুলে দেখা গেছেন। তার সফট, রোমান্টিক হেয়ারস্টাইল এই ট্রেন্ডেরই একটি রিফাইন্ড সংস্করণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ফ্যাশন দুনিয়ায় জেনডায়াকেও বিভিন্ন ইভেন্টে ছোট চুলে দেখা গেছে, যা ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ ভাইবের সঙ্গে মিলে যায়। অতিরিক্ত স্টাইলিং ছাড়া স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা।
একইভাবে রেড কার্পেট এবং ফ্যাশন শুটে জিজি হাদিদ প্রায়ই এফোর্টলেস ওয়েব বা শর্ট টু মিডিয়াম ভাইবে হাজির হন, যা এই ট্রেন্ডের নান্দনিকতাকে আরও জনপ্রিয় করেছে।

এছাড়া নিউ-জেন ফ্যাশন ইকোসিস্টেমে মডেলদের মধ্যে ‘লেস ইজ মোর’ চুলের ট্রেন্ড ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। অতিরিক্ত সেটিং, হিট স্টাইলিং বা হাই-গ্লস লুকের বদলে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ন্যাচারাল টেক্সচার, সফট গ্ল্যাম ও এফোর্টলেস কাট। যার কেন্দ্রেই আছে ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ এর ধারণা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই ট্রেন্ড কোনো একক হেয়ারস্টাইল নয়; বরং হলিউডের নতুন বিউটি ভাষা। যেখানে সৌন্দর্য মানে আর কঠিন পরিশ্রম নয়, বরং স্বাভাবিকতা ও আত্মবিশ্বাস।

কেন এত জনপ্রিয় ‘বয়ফ্রেন্ড বব’?

প্রথাগত বব কাট সাধারণত একটু বেশি শার্প ও নির্দিষ্ট আকারের হয়। কিন্তু ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ তার চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক। এটি সাধারণত চিবুকের নিচ থেকে কাঁধের কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের হয়, ফলে চুলে থাকে বেশি টেক্সচার ও স্বাভাবিক ভলিউম।
এই কাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এটি প্রায় সব ধরনের মুখের গড়ন ও চুলের টেক্সচারের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ছোট বব কাটে অনেক সময় কোঁকড়া চুল বেশি ফুলে উঠতে পারে, কিন্তু ‘বয়ফ্রেন্ড বব’-এর একটু বেশি দৈর্ঘ্য চুলের স্বাভাবিক ভার ধরে রাখে।
কম যত্নে বেশি স্টাইল

ব্যস্ত জীবনে এমন হেয়ারস্টাইলই এখন জনপ্রিয়, যার জন্য প্রতিদিন অনেক সময় দিতে হয় না। ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ ঠিক তেমনই একটি সাধারন স্টাইল।

হেয়ার এক্সপার্টদের মতে, এই কাট খুব বেশি নিখুঁতভাবে সেট করার প্রয়োজন নেই। হালকা ব্লো ড্রাই, গোল ব্রাশ দিয়ে সামান্য ভলিউম দেওয়া অথবা প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে নিলেও এটি সুন্দর দেখায়। বরং চুলের স্বাভাবিক মুভমেন্ট ও একটু এলোমেল ভাবই এই স্টাইলের আসল সৌন্দর্য।

আরেকটি সুবিধা হলো, এটি জ্যামিতিক বা খুব নির্দিষ্ট কাট নয়। তাই চুল কিছুটা বড় হয়ে গেলেও স্টাইলটি সহজেই মানিয়ে যায়।

কীভাবে করবেন ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ স্টাইল?

এই হেয়ারকাটের মূল মন্ত্র হলো অতিরিক্ত চকচকে বা শক্ত করে সেট করা নয়, বরং হালকা ও স্বাভাবিক লুক তৈরি করা। চুলের গোড়ায় সামান্য ভলিউম, শেষে হালকা বাঁক ও কিছুটা এলোমেল লুক এই ট্রেন্ডকে আরও আধুনিক করে তোলে।

ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে নিখুঁততার চেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাভাবিকতা। পেনেলোপে ক্রুজের ‘বয়ফ্রেন্ড বব’ সেই বার্তাই দিচ্ছে। কম পরিশ্রম, বেশি আত্মবিশ্বাস আর নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা। ২০২৬ সালের এই হেয়ার ট্রেন্ড যেন সেই নতুন স্টাইল দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি।