স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। এর পেছনে সুশাসনের ঘাটতি যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা। স্বাধীনতার পর থেকে যেসব রাজনৈতিক দল দেশ শাসনের ভার নিয়েছে, তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার ফল হিসেবেই গণুআন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আমাদের ইতিহাসে বারবার ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণও ছিলো সুশাসন এবং গণতন্ত্র বাস্তবায়নের ব্যর্থতা। নির্মোহ ভাবে বলতে গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হলো কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ। আওয়ামীলীগের পতনের পর সাধারণ প্রান্তিক মানুষেরা স্বপ্ন দেখেছিলো অন্তর্চভুক্তি মূলক সমাজ ও রাজনীতির। স্বপ্ন দেখান কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতারা কিন্তু স্বপ্ন ভঙ্গের যাতনা ভোগ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক মানুষের দল। কী হলো আওয়ামী লীগ পতনের পর। আকুল আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে নাগরিকেরা অপেক্ষা করলেন, অবলোকন করলেন। আমাদের আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে যা দেখতে পেলাম তা মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিলনা। সংবদ্ধ সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলটি নাগরিকদের জন্য অস্বস্তিদায়ক ছিল। তবে চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন অনেকেই। বিশেষত সাধারণ মানুষ। প্রান্তিক বা সাধারণ মানুষ কিন্তু ‘ছাত্রজনতা’, ‘তৌহীদী জনতা’ নয়। তারা তকমাহীন নিবেদিত প্রাণ দেশ প্রেমিক নাগরিক। পঞ্চান্ন বছর ধরে তারা স্বপ্ন দেখছেন আর স্বপ্ন ভাঙ্গার বেদনা বুকে নিয়ে জীবনকে যাপন করছেন। আমার মতো অনেকেই এরজন্য গণতন্ত্রহীনতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। যদিও আমরা ডান, বাম, মধ্যপন্থী এমন কী ধর্মাশ্রয়ী দলের নেতারা যখন মেঠো বক্তৃতা দিয়ে থাকেন তখন তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের কথা শুনে থাকি। পঞ্চান্ন বছর বয়সী বাংলাদেশে এখনও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণতন্ত্রকে দেখতে পাইনা। অথচ গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম নিয়েছিলো। বায়ান্ন, থেকে উনসত্তর, একাত্তর হয়ে চব্বিশের আন্দোলনে রাজনৈতিক দল গুলো নাগরিক সমাজকে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখিয়ে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছে। বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত উদার, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, আবেগপ্রবণ যা উদার গণতন্ত্রের উপাদানের সঙ্গে সামজস্য-পুর্ণ। এ কারণেই সুবর্ণ পলিমাটির এ’দেশে মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নানা ভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছে। আধুনিক পৃথিবীতে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনতান্ত্রিক মতবাদ হচ্ছে গণতন্ত্র। পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ দেশে রয়েছে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। নব্বইয়ের দশকে স্নায়ুযুদ্ধের পতনের পরে পৃথিবির অধিকাংশ দেশেই স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে, বিকাশ লাভ করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। কিন্তু, পৃথিবীর প্রায় সবগুলো দেশই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন বিকল্পসহ গ্রহণ করেছে। ফলে, পৃথিবীর যে দুই-তৃতীয়াংশ দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, তার মধ্যে একদেশের গণতন্ত্রের সঙ্গে আরেক দেশের গণতন্ত্রের হুবহু মিল পাওয়া কার্যত অসম্ভব। প্রত্যেক দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই কিছু স্বাতন্ত্র্য দেখা যায়। আমাদের দেশেও স্বকীয় বৈশিষ্ঠ নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো। রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা, নিবেদন, এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের যতোটুকু ত্যাগের প্রয়োজন ছিল আমরা সেরকম রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারিনি এখনও। উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন, পাপ এবং দুঃখের এই বিশ্বে অনেক ধরনের সরকার ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা এবং পরীক্ষা, নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এরকম পরীক্ষা বহমান থাকবে। গণতন্ত্র প্রেমীরা এ’কথা বলেনা যে গণতন্ত্র নিখুঁত বা সব চেয়ে ভালো রাজনৈতিক ব্যবস্থা। গণতন্ত্র নিয়ে বলা হয়, গণতন্ত্র হলো সরকারের অন্যতম খারাপ রূপ, তবে অন্য সব রকমের সরকার ব্যবস্থা থেকে খারাপ বা দুর্বল নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি একমাত্র সরকারব্যবস্থা, যা বেশির ভাগ জাতি গণতন্ত্রের ত্রুটি এবং অন্তর্নিহিত দুর্বলতা সত্ত্বেও পেতে চায়। গণতন্ত্র যতোটূকু গণমুখী, জন কল্যাণকর তার থেকে গণতন্ত্রের ত্রুটি কিছুটা হলেও বেশি। অগণতান্ত্রিক দেশের তুলনায় গণতান্ত্রিক শাসনে জনগণের অংশগ্রহণ বেশি থাকে, যার ফলে জনসাধারণের সেবার কাঠামো গঠন করা হয়, যা জনগণের কল্যাণের জন্য প্রকৃত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এসব আলোচনার মর্ম কথা হলো গণতন্ত্র নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারে অনেক সমালোচনা করা যায় কিন্তু গণতন্ত্রের বিকল্প তৈরি করা যায়না। গণতন্ত্র হলো এ’ যাবত কালে পরীক্ষিত সর্বোত্তম রাজনৈতিক ব্যবস্থা। বৈচিত্র্যময় বিতর্ক আর চর্চার রাজনীতির মধ্যেও, গণতন্ত্রের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভ্যারিয়েন্টটি হচ্ছে উদার গণতন্ত্র। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গণতন্ত্র বলতে উদার গণতন্ত্রকেই বুঝানো হয়। মানুষের প্রতি শাসকের সমদৃষ্টি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। গণতান্ত্রিক অধিকার মূলত মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকারের কথাই বলে থাকে। আর এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সুশাসন। এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক রায়ের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের অবজ্ঞা ও অস্বীকৃতিই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। অথচ সংসদীয় গণতন্ত্রকে এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যায়নি। আমরা আশা করি, বর্তমান সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দল দুই পক্ষই জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং জাতীয় সংসদকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থা। সুশাসন ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। যখন প্রশাসন দলীয়রূপ ধারণ করে তখন আমলাতন্ত্র শাসকদলের লেজুড়বৃত্তি করে। দুর্নীতি ও লাল ফিতার দৌরাত্মে প্রশাসন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। জনসমর্থন না থাকলে শাসকগোষ্ঠী আমলা নির্ভর হয়ে পড়ে এবং দেশ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শাসকবর্গ যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে প্রশাসনে ও বিচারালয়ে নিজেদের অনুগত লোকদেরকে নিয়োগ দেয় যাতে এদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে। ফলে প্রশাসন দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ আমলাদের আখড়ায় পরিণত হয়। এসব কারণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শ্লথ হয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি না থাকলে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়, তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সমস্ত সমাজ জুড়ে এক ধরণের নীরবতার সংস্কৃতি নেমে আসে। অল্প সংখ্যক মানুষের দাপুটে অবস্থানকে শাসকদের কাছে মূল্যবান হয়ে পড়ে কারণ তাদের চেতনা এবং শাসকদের চেতনার একটি দৃশ্য অদৃশ্য সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়। প্রান্তজনের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন বিভিন আন্দোলন থেকে ওঠে আসা জনগণের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ছেষট্টি থেকে চব্বিশ পর্যন্ত সকল আন্দোলনের মূল কথা ছিলো সমতার বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের পেছন ফিরে তাকাতে হবে। স্বপ্নের অনুবাদ করার দক্ষতা, যোগ্যতা এবং নিবেদন প্রয়োজন। এপ্রসঙ্গে, একটি জাতীয় সংবাদপত্রে জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার জনাব হাফিজ উদ্দীন আহমদ এর একটি সাক্ষাৎকারের অংশ তুলে ধরে লেখাটি সমাপ্ত করতে চাই। তিনি বলেছিলেন ‘আমাদের বহু সাফল্যের পেছনে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয় একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। সেই শক্তি ও চেতনাকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। আর একটি বিষয় হলো—গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা সমাজ গড়ে তোলা; যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সামাজিক সুবিচার, সাম্য ও মানবিক চেতনা প্রতিষ্ঠা করা। এসব মূল্যবোধকে আবার রিস্টোর করতে হবে। বৈষম্য কমাতে হবে—ধনী-গরিবের বৈষম্য, অঞ্চলভেদে বৈষম্য, নারী-পুরুষের বৈষম্য—সবই কমাতে হবে।’ আমরা কী পারবো প্রান্তজনের বাংলাদেশ প্রতিষথা করতে। আইনের শাসন ভেঙে গেলে দেশ প্রেমিক নাগরিকদের মধ্যে এক ধরণের ভীতি সৃষ্টি হয়। এর ফলে সমাজে অরাজকতার সৃষ্টি হয়। গুম, খুন, সন্ত্রাস, সরকারী অর্থ লোপাট ও সম্পদের অপচয় বৃদ্ধি পায়। সমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মিডিয়া ও সুশীল সমাজ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থা যেকোন দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের রক্ষাকবচ। এ ধরনের গণতন্ত্র সুশাসনকে নিশ্চিত করে। প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতি এবং সমাজ আমাদের কাঙ্ক্ষিত। আমরা ফেব্রিয়ারির নির্বাচনের পূর্বে অন্তর্ভুক্তি মূলক রাজনীতি এবং সমাজের কথা শুনেছিলাম। আমরা চব্বিশের আন্দোলনের পূর্বে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা শুনে আশান্বিত হয়েছিলাম। বৈষম্যহীনতার কথা আমরা খুব কম শুনে হতাশ হই। জাতীয় ভাবে আমরা কিজবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র ও সুশাসন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথে হাঁটতে হবে এবং উন্নত অবকাঠামো তৈরীতে আরও মনোযোগি হতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করবে। সপ্তদশ শতাব্দীর বৃটিশ সমাজ বিজ্ঞানী জন লকের ’সোশিয়াল কন্ট্র্যাক্ট’ বা সামজিক চুক্তি মতবাদ এ মতটিকেই সমর্থন করে। তার মতে একনায়কতন্ত্র বা একদলীয় শাসন কখনও গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়, কেননা তা জনগণের অধিকারকে খর্ব করে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানুষের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। স্বৈরতন্ত্র নাগরিকের সব অধিকারকে শুধু খর্বই করে না, উন্নয়নের ধারাকেও রুদ্ধ করে দেয়। স্বৈরাচারী আমলে এর অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। জন লক রাষ্ট্রের এ ধরনের অপরিমেয় সাংবিধানিক ক্ষমতার বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে জনগণ রাষ্ট্রকে ক্ষমতার লাইসেন্স প্রদান করে না। তৃণমূল জনগণের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। বিকেন্দ্রীকরণ তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও স্বনির্ভর করে তোলে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থা। সুশাসন ন্যায় ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। যখন প্রশাসন দলীয়রূপ ধারণ করে তখন আমলাতন্ত্র শাসকদলের লেজুড়বৃত্তি করে। দুর্নীতি ও লাল ফিতার দৌরাত্মে প্রশাসন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। জনসমর্থন না থাকলে শাসকগোষ্ঠী তখন আমলা নির্ভর হয়ে পড়ে এবং দেশ পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শাসকবর্গ যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে প্রশাসনে ও বিচারালয়ে নিজেদের অনুগত লোকদেরকে নিয়োগ দেয় যাতে এদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে। ফলে প্রশাসন দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ আমলাদের আখড়ায় পরিণত হয়। এসব কারণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শ্লথ হয়ে পড়ে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি না থাকলে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়, তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আইন ও বিচারের ধরা-ছোঁয়ার ঊর্দ্ধে এরা অবস্থান করে। ফলে আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়ে, অরাজকতার সৃষ্টি হয়। গুম, খুন, সন্ত্রাস, সরকারী অর্থ লোপাট ও সম্পদের অপচয় বৃদ্ধি পায়। সমাজ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মিডিয়া ও সুশীল সমাজ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলে এবং কলম ও মুখ বন্ধ রাখে। এভাবে দেশের বিরোধীদল, বিচারক, মিডিয়া, বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজ অপারগ হয়ে পড়ে। এ অবস্থা যেকোন দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের রক্ষাকবচ। এ ধরনের গণতন্ত্র সুশাসন কে নিশ্চিত করে। (লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]