পারিবারিক সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘ঝরা বকুল’। নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত নাটকটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র মনিরা হিসেবে সুনেরাহ বিনতে কামাল-এর অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে।নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর ভাষ্য, মানুষের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই তিনি কাজ করতে পছন্দ করেন। দর্শক যখন নিজেদের জীবনের প্রতিফলন কোনো গল্পে খুঁজে পান, তখন সেটি আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী এবং গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে। পারিবারিক আবেগ, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের গল্পে নির্মিত ‘ঝরা বকুল’ ইতোমধ্যেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। নাটকের গল্পে দেখা যায়, দরিদ্র পরিবারের বড় মেয়ে মনিরা ছোট ভাইবোন ও পুরো সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।পরিবারের প্রয়োজন ও দায়িত্বের চাপে বারবার পিছিয়ে যায় তার ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ের স্বপ্ন। এমনকি সংসারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তার মা-ও মেয়ের বিয়ের বিষয়ে অনাগ্রহী। এদিকে মনিরাকে ভালোবাসে কবির, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান। ভালোবাসা, দায়িত্ব ও ত্যাগের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর নাটকটি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কমেন্টবক্সে অনেকেই সুনেরাহর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।একজন দর্শক মন্তব্য করেন, “সুনেরাহকে নিয়ে এত সমালোচনা কেন হয় বুঝি না। তার কণ্ঠ, উপস্থিতি ও অভিনয় সবসময়ই আলাদা। যে কোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন তিনি।” দর্শকদের মতে, ধনী পরিবারের মেয়ে থেকে শুরু করে সংগ্রামী মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের চরিত্র—সব ক্ষেত্রেই সাবলীল অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন সুনেরাহ। নাটকটির প্রযোজক জামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে দর্শক অতিরঞ্জিত বিনোদনের চেয়ে বাস্তবধর্মী ও পারিবারিক গল্পের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাই ‘ঝরা বকুল’-এর মতো গল্প সহজেই দর্শকের হৃদয় ছুঁতে সক্ষম হচ্ছে।