নাটক মঞ্চায়ন ও স্মারক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে নাট্যকার মান্নান হীরার ৭০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আরণ্যকের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও সমাজ সম্পর্কে মান্নান হীরার ধারণা ছিল অনন্য। বিশেষ করে ‘এবং বিদ্যাসাগর’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙা নিয়ে লেখা ‘খেলাখেলা’ দেখলে তা আন্দাজ করতে পারি। এছাড়া তার লেখা একক নাটক ‘লাল জমিন’। মোমেনা চৌধুরী অভিনীত নাটক তো সারা দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে।

মামুনুর রশীদ বলেন, মান্নান হীরার বড় অবদান পথনাটকে। তিনি পথনাটকে শিল্পবোধ ও সমাজ সচেতনতা দারুণভাবে যুক্ত করেছেন। স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আরণ্যকের প্রধান সম্পাদক হারুন রশীদ।

‘নাট্যচর্চার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের একাডেমিশিয়ানদের নিকেশ-কড়চা’ শীর্ষক বক্তৃতা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক। মান্নান হীরা প্রয়াণের পর থেকে প্রতিবছর তার জন্মদিনে স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে আরণ্যক নাট্যদল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ছিল পঞ্চম স্মারক বক্তৃতা।

স্মারক বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও নাট্যসমালোচক বিপ্লব বালা, নাট্যজন ঠান্ডু রায়হান, নাট্যকার ও নির্দেশক মাসুম রেজা, গবেষক বাবুল বিশ্বাস, নাট্যনির্দেশক ও সংগঠক মোহাম্মদ বারী, নাট্যনির্দেশক ও অভিনয়শিল্পী আজাদ আবুল কালাম, নাট্যকার ও নির্দেশক অলোক বসু, নাট্যজন শহীদুল মামুন, অভিনয়শিল্পী নাজনীন চুমকি, নাট্যাভিনয়শিল্পী মোমেনা চৌধুরী, নাট্যাভিনয়শিল্পী সামিউন জাহান দোলা, নাট্যাভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক জয়িতা মহলানবিশ, নাট্য সমালোচনাক আবু সাঈদ তুলু, নাট্যকার ও নাট্যাভিনয়শিল্পী প্রশান্ত হালদার প্রমুখ। এর আগে এই আয়োজনের অংশ হিসাবে ৭ জুলাই জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মান্নান হীরার লেখা ‘ময়ূর সিংহাসন’ মঞ্চায়ন হয়।