২০২৫ সালে ওয়ানডেতে খুব খারাপ সময় কাটছিল বাংলাদেশের। টানা চারটা সিরিজে হেরে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু গত বছরের অক্টোবরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে।
এরপর পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়টাও তাতে দূর হয়ে গিয়েছিল অনেকটা। কিন্তু টানা চার সিরিজ জেতার ধারাবাহিকতা ‘পাঁচে’ পৌঁছানোর সম্ভাবনা থমকে যেতে পারে আজই।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেছে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারলে সিরিজটাও হারাতে হবে তাদের। বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় শুরু হবে এই লড়াই।
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ওয়ানডে বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন নাহিদ রানা। ২১ রানে তাঁর ৬ উইকেটে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।
কিন্তু ওই রান তাড়া করতে নেমেও ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এর আগে সিরিজের একমাত্র টেস্টেও ব্যাটিং–ব্যর্থতায় হেরেছিল নাজমুল হোসেনের দল। এমন ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ—এমন বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।
গতকাল মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত পরের দুই ম্যাচে আমাদের ব্যাটসম্যানরা ছন্দে ফিরবে। আমরা যেমন পারফরম্যান্স করছি, তা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে। আমি নিশ্চিত যে পরবর্তী দুই ওয়ানডে ও তিন টি-টুয়েন্টিতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা গত ৬ মাসের মতো ভালো পারফরম্যান্স করবে।’
ব্যাটিং–ব্যর্থতার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন আশরাফুল, ‘ওয়ানডে ম্যাচে যারা দ্রুত আউট হয়েছে, তারা কিছুটা দুর্ভাগা ছিল। কারণ তাদের শটগুলো সরাসরি ফিল্ডারের হাতে চলে গিয়েছিল। বাংলাদেশে বাউন্ডারির আকার সাধারণত ৬০-৬৫ মিটার হয়, কিন্তু এখানে বাউন্ডারি প্রায় ৭৩-৭৫ মিটার। এই জায়গাতেই আমাদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে আর এখানে বাউন্সও কিছুটা বেশি। গত ৭ মাস বাংলাদেশে ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করেছি এবং ভালো খেলেছি। কিন্তু এখানকার কন্ডিশনে বাউন্স একটু বেশি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সিরিজ হারের স্মৃতি অবশ্য খুব একটা পুরোনো নয়। ২০২২ সাল তাদের সঙ্গে সর্বশেষ সিরিজেও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারও প্রথম ম্যাচ হারের পর ওই শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। সিরিজ বাঁচাতে ব্যাটসম্যানদের ঘুরে দাঁড়ানোর দিকেই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
এমন ম্যাচের আগে একটা ধাক্কাও খেয়েছে বাংলাদেশ। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে চোট পাওয়ায় তাদের বিপক্ষে টি–টুয়েন্টি ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি। ওয়ানডে সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে গেলেও প্রথম ওয়ানডের একাদশে ছিলেন না। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, চোট সেরে না ওঠায় পুরো সিরিজেই তিনি নেই।
নাহিদ রানার রেকর্ডের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হারল বাংলাদেশ







