দক্ষিণাঞ্চলের ১৮ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ খুলনা সিটি বাইপাস সড়কের ময়ূর ব্রিজ থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত দীর্ঘদিনের বেহাল অংশে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে জোড়াতালির সংস্কারে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই লেয়ারে ইট বসানোর সময় নিচের স্তরে এমন নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সামান্য চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। ফলে কোটি টাকার এই সংস্কার কতদিন টিকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তার ভাঙা পিচ তুলে রোলার দিয়ে সমান করে দুই স্তরে অটো ব্রিকসের ইট বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলজিইডি ডুমুরিয়া অফিস সূত্র জানায়, জানুয়ারিতে এই কাজের টেন্ডার করা হয়। জরুরি সংস্কারের আওতায় এটি বাস্তবায়নে কার্যাদেশ পেয়েছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। ময়ূর ব্রিজ থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮০ মিটার সড়কে দুই লেয়ারে এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) পদ্ধতিতে অটো ব্রিকসের ইট বসানো হচ্ছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এর কার্যাদেশ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স পেলেও মূলত সংস্কারকাজ করছে বিকাশ ও আলাউদ্দিন নামে অন্য দুই ঠিকাদার। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, কোনো নিম্নমানের ইট ব্যবহার হচ্ছে না। সব ইট অটো ব্রিকসের। ওপরের লেয়ার এক নম্বর ইট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। নিচেরটিও অটো ব্রিকসের, তবে একটু দেখতে খারাপ। এটি লোকাল অটো ব্রিকস মেশিনে তৈরি। মালামালের স্বল্পতার কারণে ঠিকাদার লোকাল ইট দিচ্ছে। তবে সেটিও ভালো মানের ইট। স্থানীয় সূত্র জানায়, খুলনা শহর থেকে বের হওয়া এবং প্রবেশের অন্যতম রাস্তা সিটি বাইপাস সড়ক। এটি সংস্কার করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ২০১৩ সালে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২ হাজার ১৬০ মিটার সড়কের মধ্যে ময়ূর ব্রিজ থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮০ মিটার অংশ এলজিইডির কাছে এবং ময়ূর ব্রিজ থেকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পর্যন্ত ৭৮০ মিটার অংশ খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে কেসিসি রাস্তার দুই পাশে ড্রেন না থাকা এবং জমি অধিগ্রহণের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় সড়কের অংশটুকু বুঝে নেয়নি। কেডিএ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে তৎকালীন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ তুলে সড়কের দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ২০২১ সালের শেষদিকে এলজিইডি ময়ূরী ব্রিজ থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত অংশ সংস্কার করলেও বাকি অংশ বেহাল থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সড়ক সংস্কার করেন। সংস্কারের মাত্র চার বছরের মধ্যেই এ সড়কটি ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ১৮ জেলার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। সামনে বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু হলে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী বাদ দিয়ে স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়ন প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসাবে সাময়িক সংস্কার। অটো ব্রিকসের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাস্তায় পর্যাপ্ত টেম্পার রয়েছে। পানি জমবে না এবং ভারী যান চলাচলেও সমস্যা হবে না। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। খুব দ্রুত আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হবে।