একাধিকবার তারিখ দিয়েও শেষ পর্যন্ত উদ্বোধন হয়নি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম জানিয়েছেন ৫ আগস্টের মধ্যেই জাদুঘরটির উদ্বোধন হবে। এদিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এ বছরের মধ্যে উদ্বোধন হবে কিনা এ বিষয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলার বিরুদ্ধে কাজ বিলম্বিত করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও কানিজ মওলার ভাষ্য, কেউ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন দাবি করেছেন। এমন বাস্তবতায় অনেকে মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা না এলে আগস্টেও জাদুঘরটির উদ্বোধন সম্ভব হবে না। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জাদুঘরটি উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একাধিকবার উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরটি একাধিকবার পরিদর্শন করে দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও সেই নির্দেশনাও আলোর মুখ দেখেনি।
গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছিলেন, ওই বছরের ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে। তবে তা আর হয়নি। এদিকে আগস্টেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘর উদ্বোধন করবেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই সংসদে জানিয়ে দিয়েছেন। শনিবার কানিজ মাওলার নেতৃত্বে একটি সভা হয়েছে। এতে তিনি জাদুঘরের নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন আনার জন্য বলেন। এতে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন বাধাগ্রস্ত হবে বলে অনেকে মনে করেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের কাউকে পরোয়া করেন না সংস্কৃতি সচিব। ফলে এই অবস্থা থেকে একমাত্র উত্তরণ ঘটাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংস্কৃতি সচিব যুগান্তরকে বলেন, আমি জানি না আমার প্রতি কারও কোনো রাগ-অভিমান আছে কিনা। আর আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কিনা আপনারাই খোঁজ নিয়ে দেখেন। অভিযোগগুলো সত্য কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা খোঁজ নেন। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কবে উদ্বোধন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এখন এতটুকু বলা যায়, উদ্বোধন হবে। তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা যুগান্তরের কাছে বলেননি।
এদিকে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্টের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে। প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। হয়ে যাবে।
এরও আগে ১২ মে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।
জুলাই জাদুঘর সম্পর্কে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদ জানান, তাদের সঙ্গে এই উদ্যোগের এখন আর তেমন সম্পৃক্ততা নেই। পুরো বিষয়টা দেখে মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর : এই জাদুঘরে গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের রক্তমাখা জামা-কাপড়, ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী, লাশ বহনকারী রিকশা, গণকবরসহ বিভিন্ন স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, অডিও-ভিডিও এবং ঐতিহাসিক ঘটনার নানা উপকরণও প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।








