ইউরোপজুড়ে চলছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে মহাদেশটিতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তীব্র রোদে গলে গেছে রাস্তার পিচ এবং বেঁকে গেছে রেললাইন।
সোমবার এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ইতালি ও বলকান অঞ্চলের দেশগুলো। তৈরি হয়েছে দাবানলের শঙ্কা। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবারও মহাদেশটির সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি মানুষকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর তাপমাত্রা সহ্য করতে হচ্ছে।
২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ গ্রীষ্মের শুরুর সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অবকাঠামো এবং ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।
সোমবার ইতালির উত্তরাঞ্চলের বোলজানো থেকে শুরু করে দক্ষিণের সিসিলি দ্বীপের পালেরমো পর্যন্ত মোট ২২টি শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ইতালীয় বিমানবাহিনীর আবহাওয়াবিদ দানিয়েল মোচিও জানিয়েছেন, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে আগামী কয়েকদিন এই গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে, যেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। পশ্চিম ইউরোপে গরম থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও তা স্থায়ী হবে না।
ইতালির মেটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির সভাপতি লুকা মেরকালি রয়টার্সকে জানান, ৫ বা ৬ জুলাই থেকে তাপমাত্রা আবারও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। তিনি বলেন ‘আগামী ঢেউয়েও মূলত আগের এলাকাগুলোই প্রভাবিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি, সুইজারল্যান্ড এবং কিছুটা ব্রিটেন।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, অতিরিক্ত গরমে বনের দাবানলের ঝুঁকি বাড়লেও কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে তীব্র বজ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। এছাড়াও তুরস্ক বাদে ইউরোপের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ২ জন মানুষ মঙ্গলবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করবেন। বর্তমানে এই তাপপ্রবাহ পূর্ব ও দক্ষিণ ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। হাঙ্গেরির প্রায় পুরো জনসংখ্যাই আজ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কবলে পড়তে যাচ্ছে।








