লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য। সেই ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে দেশ আবারও পিছিয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪ এর গৌরবময় স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে গুম হন এবং দীর্ঘ আট বছর পর ২০২৪ সালের আগস্টে মুক্তি পান।
আরও পড়ুন
বেতন-ভাতা ছাড়াও এক কোটি টাকা ‘বিশেষ প্রণোদনা’ পাচ্ছেন আযমী
আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, জুলাই আন্দোলন আমি সরাসরি দেখিনি। আমি তখন অন্ধকার জগতে ছিলাম। পরে ভিডিওতে দেখেছি, মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়ে এখনো বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের এই ত্যাগ না হলে আমি হয়তো ২ হাজার ৯০৮ দিন বা ৬৩ হাজার ঘণ্টার অন্ধকার ঘর থেকে বের হতে পারতাম না।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ শাসন করেছে। কিন্তু দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় সেই সরকারকে সরানো সম্ভব হয়েছে। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
তবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গত দেড়-দুই বছরে আমরা আবার বিভক্ত হয়ে গেছি। ভিন্ন মত মানেই দেশের শত্রু নয়। মতের পার্থক্যের কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন
মৃতপ্রায় হয়ে পড়লে ২১ ফুটের সেই কক্ষে এসি লাগানো হয়: আমান আযমী
তিনি জানান, দেশে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন ইনিশিয়েটিভ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ উদ্যোগে অরাজনৈতিক, দেশপ্রেমিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমান আযমী আরও বলেন, সরকারি দল, বিরোধী দল, ছোট দল, বড় দল সবার কাছে গিয়ে হাত জোড় করে বলবো আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এখানে কোনো বৈষম্য, জুলুম বা অধিকার হরণ থাকবে না।
আরও পড়ুন
অপরাধীকে গালি দেন, সেনাবাহিনীকে নয়: আমান আযমী
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালও দেশের জন্য একটি বড় সুযোগ ছিল। জুলাইয়ের শিক্ষা কাজে লাগাতে না পারলে বাংলাদেশ আবারও অন্তত ৫০ বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
টিটি/এমএমকে








