জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারত সরকার তার ছাত্রদের, তরুণদের এবং জনগণকে ভয় পাওয়া শুরু করছে। তারা সতর্ক হচ্ছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের সরকার ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে।

যেই দেশে জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকার পতন হয়েছিল এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যে এই সরকার এসেছে, এই নতুন সরকার, নির্বাচিত সরকার জনগণের রায়কে তারা ক্ষমতায় এসেই অবজ্ঞা করা শুরু করেছে।

আজ শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য নাহিদ এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে, সেই রায়কে বিএনপি অবজ্ঞা করছে। যেখানে ভারতের সরকার তার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের মুখে পরাজিত হয়েছে, মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এখন সব জায়গায় জনগণের রায়ের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে।

এনসিপি প্রধান বলেন, এই দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি তার নিজের দলের ভেতর কোনো সংস্কার আনল না এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য যে অন্যতম ঐকমত্য, সেই ঐকমত্যও সে মেনে নিল না। যদি সে এই পথে হাঁটে, যদি সে জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটে রাজি হলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সংস্কার কী—সেটা ভুলে গিয়েছে। তাদের ৩১ দফাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরেও সংস্কার কী—তারা ভুলে গিয়েছে। তারা এখন শুধু সংশোধন চিনে, আর কিছু চিনে না। বিএনপি সমর্থিত কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী, তারাও প্রচার করছে দেশে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের মানুষ সংস্কারের জন্যই জীবন দিয়েছে। এই বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে, ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আজকে ঢাকাতে তীব্র গ্যাসের সংকট, গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে। মধ্যবিত্তের ওপরে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়ে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।