ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন বলেছেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ফেনীতে প্রতিনিয়ত মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান হচ্ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। গুলিবিদ্ধ করে হলেও মাদক ও চোরাচালান বন্ধ করতে হবে।’
আজ শনিবার ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে জয়নাল আবদিন বলেন, ‘আমরা এমপি হয়েছি বসে থাকার জন্য নয়। আমরা অনেক জেলার চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও একেবারে ভালো নেই। প্রতিদিন মদের চালান, মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধ হচ্ছে। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক আসছে। প্রশাসনকে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
জয়নাল আবদিন বলেন, ‘ফেনীর চারপাশেই সীমান্ত। প্রায় সব সীমান্ত দিয়েই চোরাচালান হচ্ছে। অনেক ছোট ছোট ছেলে নেশা করে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। শুধু প্রশাসনের পক্ষে এসব দমন করা সম্ভব নয়। রাজনীতিবিদ, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষকে এগিয়ে এসে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এমপি বলেন, ‘সৎ ও সঠিকভাবে ব্যবসা করলে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। ব্যবসা করে বড় হবেন, তবে তা হতে হবে নৈতিকতা ও সততার সঙ্গে। চেম্বার অব কমার্সকে আমরা সবসময় সহযোগিতা করব।’
এমপি আরও বলেন, ‘নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। কিশোর গ্যাং ও নেশাগ্রস্তদের নিয়ন্ত্রণে আজ থেকেই কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। যদি সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে রাজনীতি করে লাভ নেই। পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করেছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে এটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকেও তাদের দূরে রাখা যাবে।’
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।








