চার দফা সম্ভাব্য সময় জানিয়েও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কথা ছিল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হবে। পরে তা পিছিয়ে ঈদের আগে এবং ঈদের পরে দুই দফা সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে জুন মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
বেশ জোর দিয়ে এ দফায় সময় ঘোষণা করলেও ফের ব্যর্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। চলতি জুন মাসেও এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না।
টানা চার দফায় ব্যর্থ হয়ে এবার জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। দফায় দফায় সম্ভাব্য সময় জানিয়েও ফল প্রকাশ না করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে শিশুরা মানসিক চাপে রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে তাদের পড়ালেখা ও পরীক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করেন শিক্ষকরা।
আরও পড়ুন
বৃত্তি পরীক্ষার ফল পেতে অপেক্ষা বাড়ছে সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর
অভিভাবক-শিক্ষকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস পর বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়েছে। তারপরও তারা পরীক্ষায় আগ্রহ নিয়ে অংশ নিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ালেখার মধ্যেই পঞ্চম শ্রেণির বই পড়ে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এখন ফল প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। এতে শিশুশিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়েছে।
ফল প্রকাশ নিয়ে কী বলছে অধিদপ্তর
চলতি মাসে ফল প্রকাশ সম্ভব নয় জানিয়ে প্রাথমিক অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষার ফলটা এ মাসেও হচ্ছে না, আমরা পারিনি। কিছুটা সময় লাগবে। কাজ পুরোপুরি শেষ করা যায়নি। সেজন্য দেরি করতে হবে।’
কবে নাগাদ ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা হয়ত জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে চলে যাবে। তার আগে আর হওয়ার কোনো সুযোগ দেখছি না। সে ক্ষেত্রে আরও ১৫ দিনের মতো সময় আমাদের লাগবে। একটু অপেক্ষা বাড়বে আর কি।’
ফল প্রকাশে দেরি কেন?
পরীক্ষা শেষ হওয়ার একমাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা ছিল। প্রথম সম্ভাব্য সময় ছিল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। সেখান থেকে মে ও জুন মাস পার হলেও ফল প্রস্তুত করা যায়নি। অথচ এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায়ও ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়।
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, ‘আমাদের বেশ কিছু ইভেন্ট পড়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা পদক, প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবলসহ আরও কিছু ইভেন্ট ছিল। শিক্ষক-কর্মকর্তারা এ নিয়ে মাঝের সময়টায় ব্যস্ত ছিলেন। তারা ফলাফল প্রস্তুতের কাজে সময় দিতে পারেননি। সেজন্যই মূলত এবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’
গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন)।
বৃত্তি পাবে কতজন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল কবে, যা বললো অধিদপ্তর
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ঃ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ঃ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।
কারা কত টাকা পাবে, কতদিন পাবে
শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।
এএএইচ/এমআইএইচএস








