নিজস্ব সুইমিংপুল না থাকলেও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটারপোলো (ছাত্রী) প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এসেছে এই সাফল্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ ও ২৭ জুন অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার ও ওয়াটারপোলো (ছাত্রী) প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়। এতে ছাত্রী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)।

প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবির শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক, ৫০ মিটার বাটারফ্লাই, ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক এবং ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল—চারটি ইভেন্টেই স্বর্ণপদক জয় করেন। একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আক্তার একই চারটি ইভেন্টে রৌপ্যপদক অর্জন করেন।

চারটি স্বর্ণপদক জয়ের সুবাদে প্রতিযোগিতার ছাত্রী বিভাগের সেরা সাঁতারুও নির্বাচিত হন মিতু আক্তার। অন্যদিকে, ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থী মামুন আলী।

সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মিতু আক্তার বলেন, “মেয়েদের চারটি ইভেন্টেই প্রথম হতে পেরে এবং প্রতিযোগিতার সেরা সাঁতারু নির্বাচিত হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো সুইমিংপুল নেই। দীর্ঘদিন ধরে সুইমিংপুলের আশ্বাস পেলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশার।”

শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক ও সাঁতার দলের ম্যানেজার আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, “যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুইমিংপুল নেই, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরো উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবে।”

প্রসঙ্গত, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো নিজস্ব কোনো সুইমিংপুল নেই। ফলে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সাঁতার ক্লাস পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের পুকুর ব্যবহার করতে হয়। একইসঙ্গে, বিভাগের জাতীয় পর্যায়ের সাঁতারুরাও নিয়মিত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সুইমিংপুল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।