রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের মধ্যে ১৬টিতেই স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। পাশের উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এখানে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে পর্যন্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ। এর পর থেকে রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, বরকল, বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলার ইউএনওদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জনসেবামূলক কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ ৮-১০ বছর ধরে শূন্য। একইভাবে উপজেলা প্রকৌশলী, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। সমবায় বিভাগের চারটি পদই শূন্য। বরকল উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও মাসে এক-দুই দিনের বেশি জুরাছড়িতে আসতে পারেন না। এ ছাড়া তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় থাকলেও সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সরকারি কর্মচারী জানান, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জরুরি কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয় না।

বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা বলেন, কর্মকর্তা সংকটের কারণে সরকারের সেবা তৃণমূলে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় হেডম্যান সম্রাট চাকমা বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষ এমনিতেই নানা কষ্টে সরকারি সেবা নেন। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে সেই ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

ইউপি সদস্য ননাবী চাকমা বলেন, কর্মকর্তা সংকটের কারণে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়নও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, জুরাছড়ির মতো দুর্গম উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া জরুরি।