জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এস-২৭২৯ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা প্রতিপূরণ দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষীদের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করার জন্য জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য তিনি ডিওএস-এর পরিবেশ বিভাগের প্রশংসা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এই বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।
উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া প্রতিকূল ও শত্রুভাবাপন্ন পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।
হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসব ইউনিট সোয়াত, র্যাপিড রেসপন্স প্লাটুন, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক, সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।
হাইতিতে এই সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১৫-১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনায় অংশ নেবে। পূর্ণাঙ্গ এফপিইউ মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতেও বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারি, সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।








