হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গাইডওয়াল ধসে পড়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাব ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোত এবং নির্মাণকাজের কিছু দুর্বলতার কারণে এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করে এলজিইডি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাইরুল ইসলামের কাজ এখনো বাকি। অথচ এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে গেছে এবং গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংক্রিটের ব্লক সরে গিয়ে ছিঁড়ে গেছে জিওটেক্সটাইল ব্যাগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট আকারের ব্লক ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই সামান্য বৃষ্টির চাপে এই দশা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রায় ২০০ বস্তা বালু ফেলে সাময়িকভাবে লোক চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।ফরিদপুর থেকে ঘুরতে আসা উস্তার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক দূর থেকে এসেও হতাশ হলাম। ব্রিজে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার মতো পরিবেশও নেই। যথাযথ তদারকি থাকলে এমন নিম্নমানের কাজ হতো না।’ চুনারুঘাটের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, প্রজনস্বার্থের চেয়ে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির আর্থিক সুবিধাই বেশি নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।চুনারুঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতের কারণে এপ্রোচ সড়ক ও গাইডওয়ালের অংশ ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পরিকল্পনা করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করা হবে।’এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।/
রাজনীতি
কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙল কোটি টাকার ব্রিজ

শেয়ার করুন







