বাস্তবতার নিরিখে যদি আমরা বাংলাদেশের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান। প্রতিবছর শ্রমবাজারে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে লাখ লাখ কর্মক্ষম তরুণ, কিন্তু সে তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে দেশের যুবসমাজ চরম হতাশার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ যখন কোনো দেশকে আমাদের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ বলে দাবি করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে-এই বন্ধুত্বের গভীরতা কতটুকু? একটি দেশকে তখনই প্রকৃত পরীক্ষিত বন্ধু বলা যায়, যখন দেশটি এ দেশের প্রধান জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। যদি কোনো দেশ সত্যিই বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু হয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত হবে এই বন্ধুত্বের পক্ষে বাস্তবভিত্তিক এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তারা যদি আমাদের বেকার জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে নিজ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়, তাহলেই কেবল এদেশের মানুষ বুঝবে দেশটি বাংলাদেশের প্রকৃত ও পরীক্ষিত বন্ধু। কেবল মুখের কথায় বা কূটনৈতিক টেবিলে বন্ধুত্বের কোনো স্থায়ী ভিত্তি তৈরি হয় না। বন্ধুত্ব হতে হবে উভয়ের জন্য কল্যাণকর। প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রমাণ মিলুক কাজের মাধ্যমে-এটাই বাংলাদেশের লাখ লাখ বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা