কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে সরকার। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করেই পর্যটন ও বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো যায়। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে পর্যটন উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ থাকতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তবে এমন বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয় যাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘সীমিত ভূমির দেশ বাংলাদেশে পরিকল্পিত উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) উন্নয়নই ভবিষ্যতের পথ। এতে কৃষিজমি, জলাধার ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক নগরায়ণ সম্ভব হবে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল সংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উন্নয়নকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ে তোলা হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম ‘গ্রোথ হাব’ হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে, যার লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাব এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এ মহাপরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য।’