পিরোজপুরের কলেজছাত্রী ঝর্ণা রাণী দেউরীকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি লিটন মণ্ডলকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কথা বলা হলেও মৃতদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি দুর্বলতা ছিল। ভুক্তভোগীর বাবা সরাসরি মৃতদেহ না দেখেই থানায় কেবল কাপড়চোপড় এবং পুলিশের দেখানো একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে মেয়েকে শনাক্ত করেন। শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ওই ছবিটি অধস্তন আদালতের নথিতে সংযুক্ত ছিল না। আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুন পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রতন দেউরী, রনজিৎ হাওলাদার ও বিপুল শাখারী নামের অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী ঝর্ণা রাণী দেউরীর বাবা সুভাষ চন্দ্র দেউরী ২০০৯ সালের ২৪ মে নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। এজাহার অনুযায়ী, ঝর্ণা রামচন্দ্রপুর শাহ মাহামুদিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। তাকে প্রতিবেশী লিটন উত্ত্যক্ত করতেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।

ঝর্ণা ২০০৯ সালের ১৪ মে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামে বড় বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ওইদিনই স্বরূপকাঠী কৌরিখাড়া খেয়ার ট্রলারে লিটন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ঝর্ণাকে দেখতে পান সুমন দেউরী নামের এক সাক্ষী। পরে ১৭ মে পত্রিকায় বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দেখে সুভাষ চন্দ্র থানায় গিয়ে পরিধেয় বস্ত্র দেখে তা ঝর্ণার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

এফএইচ/একিউএফ