কালিয়াকৈরে কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনরাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলায় পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। এদিকে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেও মিলছে না সমাধান।
জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক পল্লী বিদ্যুৎ ও ফুলবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। কড্ডা গ্রীড থেকে মৌচাক পল্লী বিদ্যুৎ ও কবিপুর গ্রীড থেকে বাকী জোনাল অফিস বিদ্যুৎ দিয়ে আসছে। উপজেলা ও পৌরসভার সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর পৌর এলাকা, ফুলবাড়িয়া, বোয়ালী, সূত্রাপুর, ঢালজোড়া, আটাবহ, মধ্যপাড়া, বড়ইবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। তীব্র গরমে নারী শিশু, বয়স্ক-বিভিন্ন রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, পানির মোটর ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে গেলে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। রাতে ঘুমানোও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে খামারের গরু গরমে হাঁপিয়ে উঠছে। পানির পাম্প ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকার মুরগির খামারের ফ্যান ও ভেন্টিলেশন বন্ধ হয়ে গেলে মুরগি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা, দোকানপাট ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীরাও লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা বিদ্যুতের কারণে ঠিকমতো দেখতে না পারায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
মৌচাক পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম রফিকুল আজাদ বলেন, এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম দেওয়া হয়। ফলে এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যায়।
চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জসিম উদ্দিন বলেন, এলাকার বেশির ভাগ শিল্প কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে। গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বেশির ভাগ কারখানা বিদ্যুৎ দিয়ে চালানো হয়। ফলে বিদ্যুৎ লোডশেডিং হয়। বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে।






