কমলনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুনের সঙ্গে একই দপ্তরের বিদায়ি আনসার প্রশিক্ষক নিজাম উদ্দিন ফকিরের অশোভন আচরণ ও হুমকির একটি অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে সরকারি দপ্তরেরই একজন কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকিমূলক কথাবার্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাগীয় সিদ্ধান্তে সারা দেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে কমলনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক নিজাম উদ্দিন ফকিরকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বদলি করা হয়। নির্বাচনকালীন বিভিন্ন আনসার সদস্যের তালিকা প্রস্তুতসহ দাপ্তরিক নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন উপজেলা কর্মকর্তা জাহেরা খাতুন। এর মাঝেই বদলিজনিত কারণে নিজাম উদ্দিন ফকিরের এলপিসি (লাস্ট পে সার্টিফিকেট) বা প্রত্যয়ন সনদ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগছিল। অভিযোগ রয়েছে, নিজাম উদ্দিন ফকির উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন বকেয়া বেতন ও টাকার হিসাব এবং এলপিসিতে কী কী বিষয় উল্লেখ করতে হবে সেসব প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো কর্মকর্তাকে সরবরাহ করেননি। উলটো তথ্য না দিয়েই এলপিসি নেওয়ার জন্য কর্মকর্তা জাহেরা খাতুনকে বারবার চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বসের সঙ্গে অফিশিয়াল আচরণ না করে ফোনে হুমকি দিতে শুরু করেন। এলপিসি না দিলে আনসার ডিডির কাছে লিখিত অভিযোগ করা এবং শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকারও হুমকি দেন তিনি। এরই জেরে চলতি মাসের শুরুর দিকে মোবাইল ফোনে উপজেলা কর্মকর্তা জাহেরা খাতুনকে অত্যন্ত অশোভন ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন নিজাম উদ্দিন ফকির। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, আপনার সঙ্গে আমি খেলতে রাজি।’ এ সময় তিনি ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ‘যুদ্ধে নামার’ হুমকিও প্রদান করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জাহেরা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করার পরও এবং প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে আমাকে এভাবে ফোনে হুমকি ও মানসিক হেনস্তা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ অভিযুক্ত আনসার প্রশিক্ষক নিজাম উদ্দিন ফকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আনসার ভিডিপি লক্ষ্মীপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ রেজাউল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী সব প্রমাণাদি উপস্থাপন করে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।