শব্দদূষণ রোধে সচেতনতা তৈরিতে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী কলেজের প্রভাষক মো. নুরুজ্জামান।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে কানে তুলো দিয়ে, হাতে স্টিলের থালা ও চামচ নিয়ে থালা বাজাতে বাজাতে নালিতাবাড়ী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন তিনি। পরে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

প্রভাষক নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শব্দদূষণ এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শহর থেকে গ্রাম, এমনকি পাহাড়ি বনাঞ্চলও এ দূষণের বাইরে নেই। এর ফলে শুধু মানুষ নয়, বন্যপ্রাণী ও পাখিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে রাতের বেলা, দিনের বেলা, সব সময় যানবাহনের নানা শব্দের পাশাপাশি ডিজে সাউন্ড সিস্টেম এর শব্দের কারণে মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে না কোথাও। প্রতিদিন এবং প্রতি রাত শহর, বন্দর, গ্রাম সর্বস্তরে চলছে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেমে ডিজে গান। অথচ প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব।

এই শিক্ষক বলেন, সবাই শুধু ভাবছে নিজেকে নিয়ে কিন্তু এ পৃথিবী আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করার কারও চিন্তা নেই। তাই আমি আমার এ অভিনব প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছি।

নুরুজ্জামান বলেন, আমি আজকে প্রকাশ্যে থালা বাজিয়ে বোঝাতে চাচ্ছি যে, এ শব্দ দূষণের কারণে মানুষের মস্তিষ্কে ব্যাঘাত ঘটায়, তার কর্ম ক্ষমতা লোপ পেয়ে যায়। তাই আমাদের সকলকেই এ শব্দ দূষণের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া দরকার। প্রশাসনকেও বলতে চাই, আপনারা এ শব্দ দূষণের জন্য আইনি ব্যবস্থা নিন। তাহলে আগামী প্রজন্ম বাসযোগ্য একটি পৃথিবী খুঁজে পাবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে সাউডবক্স বাজানোর কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্করা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই ওই শিক্ষক এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শব্দদূষণ রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈমুর রহমান তালুকদার বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও হকারদের মাইকিংয়ের কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারে না, বাচ্চাদের মাথাব্যথা উঠে যায় মাইকের শব্দে কিন্তু সভা-সমাবেশ কিংবা মাইকিং থামে না। বিভিন্ন যানবাহনে হাইর্ডোলিক হর্ন ব্যবহার করা হয়, যা শব্দ দূষণ করছে প্রতিনিয়ত। এক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, শব্দ দূষণ অবশ্যই সবার জন্য ক্ষ‌তিকর, আমরা চাইবো কীভাবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে