কাপ্তাই লেক বাংলাদেশের একমাত্র মনুষ্যসৃষ্ট স্বাদুপানির হ্রদ। ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জলাধারটি তৈরি করা হয়েছিল। রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত এই নয়নাভিরাম লেকটি প্রায় ১ হাজার ৭২২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর

লেকের স্বচ্ছ পানিতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা দেশীয় নৌকায় ঘুরে বেড়ানো এবং রোমাঞ্চকর কায়াকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। লেকের চারপাশের সবুজ পাহাড়, দ্বীপ, আদিবাসী সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং ঝুলন্ত সেতুর কাছাকাছি বৌদ্ধমন্দির পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কাপ্তাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম স্বাদুপানির হ্রদ।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর

কাপ্তাই লেকের ওপর রয়েছে বিখ্যাত ঝুলন্ত ব্রিজ। লেককে ঘিরেই মূলত রাঙামাটি জেলার পর্যটনশিল্প গড়ে উঠেছে। লেকের দুই ধারই পাহাড়-টিলা দিয়ে ঘেরা। ট্রলার ভাড়া করে লেকে ভ্রমণ করা যায়। ট্রলারে করে যাওয়া যায় শুভলং জলপ্রপাত ও বৌদ্ধমন্দিরে।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর

লেকের পাড়ে রয়েছে নতুন চাকমা রাজবাড়ী, রাজবন বিহার ও বৌদ্ধমন্দির। পুরোনো চাকমা রাজবাড়ী কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের সময় লেকে তলিয়ে যায়।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর

১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে রাঙামাটি জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি, সরকারি বনভূমি, সংরক্ষিত এলাকা ডুবে যায়। তখন কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের সৃষ্টি হয়। কাপ্তাই হ্রদের কারণে প্রায় ১৮ হাজার পরিবারের মোট এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর

প্রায় ৭০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের হ্রদটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি রাঙামাটি অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ ও যোগাযোগের এক বিশাল মাধ্যম। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ প্রেক্ষাপটটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।

ছবি: ফাত্তাহ তানভীর