অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মবের শিকার হয় মালিক। কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। বিএনপি সরকারের আমলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করলেও আচমকা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়ে গেছে। কারখানার ভেতরে বিদেশি বায়াররা থাকা অবস্থায় বাইরে শতাধিক মোটরসাইকেলের মহড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কারখানার ভেতরে ও বাইরে। একপর্যায়ে মহড়ার প্রতিনিধিরা কারখানায় গিয়ে তাদের কথা ছাড়া ঝুট বের করতে নিষেধ করে ফিল্মিসাইলে চলে যায়। রোববার দুপুরে টঙ্গী শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড নামক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিন জানা যায়, টঙ্গী বিসিকের ২১৯-১ পাগাড় এলাকায় ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড নামক কারখানা অবস্থিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ওই কারখানায় ঝুটের ব্যবসা করতেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী নেতারা ওই কারখানার মালিককে হেনস্তা করে। সে সময় থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে কারখানাটি স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনার পর মালিক দেশের বাইরে চলে যান। এরপর বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ঝুটের চুক্তিনামা করে কারখানাটি নিরাপদে চলতে থাকে। জানা যায়, রোববার দুপুরে আচমকা শতাধিক মোটরসাইকেল কারখানার সামনে উপস্থিত হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কারখনার ভেতরে সবাই যেতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে মহড়ার ৮/১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেন। অতঃপর তাদের সঙ্গে সমঝোতা না করে ঝুটের ব্যবসা দেওয়া যাবে না বলে জানান। ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কারখানার এ্যাডমিন অফিসার আল আমিন বলেন, একজন বড় নেতার লোক পরিচয়ে তারা এসেছিলেন। বলে গেছেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না। ওই সময় কারখানার ভেতরে বিদেশি বায়ার ছিল বলে জানান তিনি। কারখানার সামনের একাধিক দোকানি জানান, মোটরসাইকেলের মহড়া দেখে আমরা ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টঙ্গী বিসিকের একজন প্রভাবশালী নেতার বৈঠক খানায় কয়েকশ মোটরসাইকেল মহড়ার পর লোকজন অপেক্ষমান ছিল। তবে তারা কারা তা জানলেও কেউ নাম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি। জানা যায়, গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুই বড় নেতার দুই গ্রুপ ওই কারখানার ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া হয়ে গেছে। যে কোনো সময় ওই ঝুট নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।