বেলজিয়াম তার জন্মভূমি, স্পেন তার ‘দ্বিতীয় বাড়ি’। আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ মিলিয়ে ১১ বছর স্পেনে কাটিয়ে দিয়েছেন বেলজিয়ামের ৩৪ বছর বয়সি গোলকিপার হিবো কোর্তোয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ রাত ১টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে যখন মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম, রিয়াল তারকার হৃদয় কী দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে? না। কর্মভূমির প্রতি অনুরাগ থাকলেও জন্মভূমির প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে কোনো দ্বিধা নেই কোর্তোয়ার, ‘আমি স্পেনে আছি ১১ বছর। অবশ্যই এটা অনেক সময়। সেখানে জীবন কিছুটা ধীরগতির, আবহাওয়া ভালো। কিন্তু আমি বেলজিয়ামেরই রয়ে গেছি। যদিও স্পেন আমার দ্বিতীয় বাড়ি। ক্যারিয়ার শেষে হয়তো সেখানেই থিতু হব। আমার ছেলে স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ানের চেয়ে বেশি স্প্যানিশ। কিন্তু দিন শেষে আগামীকালের (আজ) ম্যাচে আমি বেলজিয়ানই।’
স্প্যানিশ ফুটবল সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা থাকায় বেলজিয়াম আজ আস্থার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে কোর্তোয়ার দিকে। এল ক্লাসিকোর আমেজ থাকবে এই ম্যাচে। স্পেন দলে নেই কোর্তোয়ার কোনো রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ। আছেন ইয়ামাল, তোরেস, পেদ্রি, ওলমো, কুবার্সির মতো একঝাঁক বার্সেলোনা তারকা। চাইলে স্পেনকে বার্সা ভেবে ক্লাসিকো জয়ের মানসিকতা নিয়ে লড়তে পারেন কোর্তোয়া! স্পেনের বিপক্ষে শেষ নয় ম্যাচের সাতটিতেই হেরেছে বেলজিয়াম। এবারও ফেভারিট স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৩২ বছর পর সেমিতে উঠেছিল বেলজিয়াম। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তারা হারিয়েছিল স্পেনকে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে আজ তেমন আরেকটি অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন কোর্তোয়া, ‘আট বছর আগে আমাদের বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল ব্রাজিল। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মানেও তারা ছিল এগিয়ে। এবার যেমন স্পেন। অবশ্যই তারা ফেভারিট। সবদিক থেকেই দুর্দান্ত দল স্পেন। আমার মতে, শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু ফুটবলে নিজেদের দিনে আন্ডারডগরাও জেতে। স্পেনকে বিদায় করে দেওয়ার পুরো বিশ্বাস আমাদের আছে।’ এমন বিশ্বাসের পেছনের যুক্তিও তুলে ধরলেন কোর্তোয়া, ‘মানুষ আমাদের নিয়ে একটু হতাশ ছিল। আমরা সেটা ঠিক করে নিয়েছি। ভালো থেকে আরও ভালো হচ্ছে আমাদের পারফরম্যান্স। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার পুরস্কার পেয়েছি। ফুটবলে ভালো খেলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ জয়। স্পেন চিত্তাকর্ষক ফুটবল খেলে। ইয়ামাল অবিশ্বাস্য মেধাবী। দুজনকে সে সহজেই কাটাতে পারে। কিন্তু আমরা জানি, কিভাবে জিততে হয়।’








