সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ ​বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম সাদিক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম এবং প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান, সদস্যসচিব অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এই তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের নামও রয়েছে। ​বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক এই ধরনের তৎপরতায় জড়িত কি না, তা অনুসন্ধানের জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ‘টেলিগ্রাম’—এর গোপন গ্রুপের সন্ধান পায়। প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামক গ্রুপের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগের দাবি করা হয়। এই গ্রুপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে দাবি করে গণমাধ্যমটি।