ফুটবলে সব গল্প গোলের নয়। কেউ নীরব থেকে অন্যদের উজ্জ্বল করে তোলেন। কাসেমিরোর ক্যারিয়ার সেই দর্শনেরই উদাহরণ। পুরো নাম কার্লোস হেনরিকে কাসেমিরো। জন্ম ১৯৯২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ব্রাজিলের সাও জোসে দোস কাম্পোস শহরে। ফুটবলের ভাষায় তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। এই পরিচয় তার জন্য খুবই ছোট। কাসেমিরো মাঠে দলের গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ভিত গড়েন। আবার বিপদ আসার আগেই থামিয়ে দেন।
শৈশব সহজ ছিল না। পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল। মাঠে বল পায়ে যে যাত্রা শুরু, সেটি ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যায় ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সাও পাওলোর একাডেমিতে।
পেশাদার ফুটবলে প্রথম ক্লাব সাও পাওলো। এরপর ইউরোপের ডাক। ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে ধারে পাঠানো হয় পোর্তোতে। আবার ফিরে এসে রিয়ালে তৈরি করেন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সফল মাঝমাঠ ত্রয়ীর একটি। লুকা মদরিচ, টনি ক্রুস ও কাসেমিরো। মদরিচ খেলাকে ছন্দ দিতেন। ক্রুস পাসে খেলার ভাষা লিখতেন। আর কাসেমিরো ছিলেন সেই অদৃশ্য শক্তি, যিনি পুরো কাঠামোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দিতেন। টনি ক্রুসের ভাষায়, ‘অনেকেই গোলদাতা আর সৃজনশীল খেলোয়াড়কে দেখে। কিন্তু যারা ফুটবল বোঝে, তারা জানে কাসেমিরোর মতো একজন ছাড়া বড় দল তৈরি হয় না।’
রিয়ালের সেই সময়টা ছিল সাফল্যের দীর্ঘ অধ্যায়। লিগ, কাপ, সুপার কাপের পাশাপাশি একের পর এক উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতেন। তার সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তির কথাও তাকে সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করে, ‘সে শুধু বল কেড়ে নেয় না, ম্যাচ পড়ে। একজন কোচ হিসাবে এমন খেলোয়াড় পাওয়া সৌভাগ্যের।’ ২০২২ সালে কাসেমিরো যোগ দেন ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে মূল দলে তিনি ধাপে ধাপে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে তাকে সব সময় সবচেয়ে আলোচিত মুখ হিসাবে দেখা হয়নি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতে, ‘কাসেমিরোর সঙ্গে খেললে বোঝা যায়, নেতৃত্ব চিৎকার করে হয় না। কখনো কখনো নেতৃত্ব আসে উপস্থিতি দিয়ে।’ এই বিশ্বকাপেও কাসেমিরো নিজেকে চিনিয়েছেন। শুরুতে ব্রাজিলকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সমালোচনা ছিল। জাপানের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল ফিরে আসে তার গোলে। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডার শুধু সমতা ফেরায়নি, বদলে দিয়েছিল পুরো ম্যাচের গতি।








