ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রতিনিধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। তবে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি আলজাজিরাকে জানান, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা কাতারের রাজধানীতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে ইরানের কূটনীতিকদের সঙ্গে তাদের সরাসরি আলোচনা হবে না। ‘ইরান আলোচনা চেয়েছিল’ বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করার পর এ তথ্য জানানো হলো।

মার্কিন প্রতিনিধিদল দোহায় এলেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ইরান তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। তেহরান জানিয়েছে, তারা একটি কারিগরি প্রতিনিধিদল পাঠাবে। এই দলের মূল লক্ষ্য হবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখা। এর মধ্যে আছে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সংক্রান্ত বিরোধ এবং ইরানের আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা।

তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ভাল জানান, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের গতি নিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদলের ‘অনেক আপত্তি, সমালোচনা ও উদ্বেগ’ রয়েছে। তারা স্মারকের ১ নম্বর ধারাটি, অর্থাৎ দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান।

সোমবার গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবানন যুদ্ধ নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনে জায়নবাদী সরকারকে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি পালনে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা বা অবস্থান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মূল মাপকাঠি হলো সমঝোতা স্মারকের মূল পাঠ্য বা শর্তাবলি।’

মোহাম্মদ ভাল জানান, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর ধারাটিও একটি মতপার্থক্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান মনে করে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগের ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনার এখতিয়ার এ ধারাটি তাদের দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিনিদের ধারণা হলো-ইরানের উচিত কেবল সরে দাঁড়ানো এবং নৌচলাচলকে অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন হতে দেওয়া।

ওমান ও আন্তর্জাতিক সামুদ্র সংস্থার প্রস্তাবিত রুটের কথা উল্লেখ করে ভাল বলেন, হরমুজ প্রণালির ওমান প্রান্তের কাছে নতুন পথ খোলার বিষয়েও ইরানের উদ্বেগ রয়েছে। ইরান বিশ্বাস করে, এটি ইরানের সমন্বয় ছাড়াই করা হয়েছে, যা তারা সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে মনে করে।

কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

হরমুজে আবার জাহাজ চলাচল বেড়েছে : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় শনি ও রোববার ধীরগতির পর সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ৪০টি জাহাজ এ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করেছে, যা আগের দিন রোববার ছিল ২৪টি এবং শনিবার ছিল ৩৯টি।

মঙ্গলবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধ শেষ করার একটি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনায় সম্মত হওয়ার পর গত সপ্তাহে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে শুরু করে। গত বুধবার তেল ও গ্যাস পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালি দিয়ে ৭৬টি জাহাজ চলাচল করে, যা ১ মার্চের পর সর্বোচ্চ।