হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড দুজন ভিন্ন ধরনের ফরোয়ার্ড। কেইন আসলে ঠিক স্ট্রাইকার নন। আর হলান্ড স্ট্রাইকার ছাড়া অন্য কিছু নন। এই মনস্তত্ত্বে এখানে হলান্ড হতে পারেন ভালো ফিনিশার। নরওয়ের গোলমেশিনের কাজ হচ্ছে বক্সের ভেতরে থেকে গোল করা। আর এই কাজে তিনি সুদক্ষ। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কেইন একজন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার। গোলের রাস্তা খুঁজে পেলে, তাকে দিয়ে গোল হবে না, এমনটা হতে পারে না। এটাই তার সবচেয়ে ভালো দিক। কেইন যেমন পায়ে গোল করতে পারদর্শী, তেমনি শূন্যেও দুর্দান্ত। দূরপাল্লার শটেও তার জুড়ি মেলা ভার। এক্ষেত্রে হলান্ডের প্রতিভা কিছুটা সহজাত। তবে দূরপাল্লার শটে নরওয়েজীয় ফরোয়ার্ডের তুলনায় এগিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

হলান্ডের উচ্চতা ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি। এই উচ্চতার কারণে হেডে গোল করা তার জন্য সহজ। ম্যানচেস্টার সিটিতে তিনি যোগ দেওয়ার পর ইংল্যান্ডে তার থেকে হেডে আর কেউ বেশি গোল করতে পারেননি। কেইনও শূন্যে ভালো। হলান্ড অবশ্য গোলটা খুব ভালো চেনেন। একটা দিক দিয়ে কেইন কিছুটা পিছিয়ে হলান্ড থেকে। সেটি হচ্ছে গতি। এটাই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের দুর্বলতা। যদিও কেউ কেউ তাকে যতটা মন্থর বলেন, কেইন আসলে ততটা ধীরগতির নন। গতিতে হলান্ড এগিয়ে কেইন থেকে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হলান্ড ঘণ্টায় ২২.৯ মাইল দৌড়েছেন, যা আশরাফ হাকিমি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে দ্রুততম।

আবার কেইন এক জায়গায় এগিয়ে হলান্ড থেকে। প্রায় ১০০ ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে। তার নেতৃত্বগুণ অনুসরণযোগ্য। হলান্ড কখনো প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকেন না। তবে সত্যিকারের কান্ডারি বলতে যা বোঝায়, হলান্ড তা নন। নেতৃত্বের ইস্যুতে কেইনের গুণ হলান্ডের মাঝে অনুপস্থিত।