গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি হবিগঞ্জে ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রশক্তির নেতা আলিফের চোখ হারানো এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে হট্টগোলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

তাসনিম জারা আজ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে নিজের পাশে আসন দেওয়ার ঘটনা এবং চীন মৈত্রী সম্মেলন মিলনায়তনে হট্টগোলের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডেকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানানোর ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এমন প্রকাশ্য সৌহার্দ্য ও যোগাযোগের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রস্থলে নেতারা যখন পাশাপাশি বসতে পারছেন কিংবা নাম ধরে ডেকে আলাপ করতে পারছেন, তখন মাঠপর্যায়ে সেই পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় রাজনীতি ও তৃণমূলের মাঠের বাস্তবতার মধ্যকার ফারাক বোঝাতে ড. তাসনিম জারা হবিগঞ্জের ১৯ বছর বয়সী ছাত্রশক্তির নেতা আলিফের উদাহরণ দেন।

আলিফের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন্দ্রের এই বোঝাপড়া তৃণমূল পর্যন্ত নামলে কি আলিফের চোখটা যেত?’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘মাঠে অবশ্য এই বোঝাপড়া নামে না। নামে ঘৃণা, হুংকার, ও দেখে নেয়ার হুমকি। মঞ্চ থেকে ছোড়া সেই হুঙ্কারের জের ধরে মাঠে গিয়ে সেটা হয় লাঠি, রড, ইট। অথচ রাতে ওনারা ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন। ফোনে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। মাঝখানে চোখ হারায় আলিফের মতো মাঠের কর্মীরা।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে আলোচনা বা সৌজন্যের ইঙ্গিত থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘাত, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। ড. তাসনিম জারা তাঁর লেখায় স্মরণ করিয়ে দেন, মাঠপর্যায়ের এ সংঘাতের শিকার হন মূলত সাধারণ কর্মীরাই।

তিনি মন্তব্য করেন, রাজনীতিতে নেতৃত্বের সৌজন্যতা শুধু শীর্ষ পর্যায়ে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে সীমাবদ্ধ থাকলে সাধারণ কর্মীদের জীবন ও অঙ্গহানি থামানো সম্ভব নয়। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের প্রাণ ও দৃষ্টি বাঁচাতে হলে এই সৌজন্য ও পারস্পরিক সহনশীলতার চর্চা কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।

পোস্টের শেষভাগে তিনি আকুতি জানিয়ে লেখেন, ‘রাজনীতিতে সৌজন্যতা কর্মীদের চোখ বাঁচাতে পারে, প্রাণ বাঁচাতে পারে। কিন্তু সেই সৌজন্যতা শুধু শীর্ষ নেতাদের মধ্যে থাকলে চলবে না। এই চর্চাটা লাগবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।’

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে একটি ডকুমেন্টারি (প্রামাণ্যচিত্র) প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। উপস্থিতদের একাংশের অভিযোগ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ সময় রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ডাকেন।