জাদুকরী ফুটবলে বছরের পর বছর ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছেন লিওনেল মেসি। আর রেকর্ড ভাঙা তো তাঁর কাছে সবচেয়ে সহজ কাজ। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে অনুষ্ঠিত কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে একগাদা রেকর্ড লিখিয়ে নিয়েছেন নিজের নামে।

মায়ামিতে আজ নকআউট পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোল পেয়েছে ৩০ মিনিটের মধ্যেই। গোলটা করেছেন রেকর্ডের বরপুত্র মেসি। ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পাস রিসিভ করে মাত্র ৭ গজ দূর থেকেই গোল করে মেসি ওলটপালট করে দিলেন রেকর্ড বইয়ের পাতা। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে গোল পেয়েছেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, ফাইনালের পর চলমান বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই গোল পেয়েছেন তিনি।

প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি। সবশেষ কাতার বিশ্বকাপে নকআউটের চার ম্যাচের পর আজ শেষ বত্রিশেও গোল পেলেন তিনি। এমনকি আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার ভেঙে দিয়েছেন পেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পেরও রেকর্ড। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১২ গোলে অবদান রেখেছেন মেসি। করেছেন ৬ গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন ৬ গোলে। পেলে, এমবাপ্পে—দুজনেরই বিশ্বকাপ নকআউটে ১১ গোলে অবদান রয়েছে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা হলো ৭। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর গোল এখন ২০। যার মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে করেছেন ১৯ গোল। এটাও বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ। আর আজ মায়ামিতে মাঠে নেমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

২০২৩ সাল থেকে ইন্টার মায়ামি মেসির ‘দ্বিতীয় পরিবার’। মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামকে মেসির ঘরের মাঠ বলা যেতেই পারে। রেকর্ডগুলো গড়তে ঘরের মাঠকেই বেছে নিলেন তিনি। তাঁর গড়ার দিনে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে কেপ ভার্দেকে। যার মধ্যে আর্জেন্টিনাকে এক গোল উপহার দিয়েছেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্জেস। প্রথমে গোলটা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নামে লেখা হলেও পরে সেটা বোর্জেসের আত্মঘাতী গোল ধরা হয়েছে। আলবিসেলেস্তেদের গোল দুটি করেছেন মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস।

রুদ্ধশ্বাস জয়ে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষও ঠিক হয়ে গেছে। গত রাতে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে মিসর। ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা-মিসর শেষ ষোলোর ম্যাচ।