বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে শুক্রবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ১০০তম ম্যাচে দায়িত্ব পালন করবেন লিওনেল স্কালোনি। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
৪৮ বছর বয়সী স্কালোনি প্রায় আট বছর ধরে আর্জেন্টিনার দায়িত্বে রয়েছেন। এই সময়ে তিনি ৯৯ ম্যাচে ৭৮টি জয় এবং চারটি শিরোপা উপহার দিয়েছেন।
তার অধীনেই আর্জেন্টিনা দীর্ঘ দুটি শিরোপাখরা কাটায়। ২০২১ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতে ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
এরপর ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয়ের পর একই বছরের ডিসেম্বরে কাতার বিশ্বকাপ জিতে ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষাও শেষ করে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২৪ সালে দলটি আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে কোচিং করানোর রেকর্ড এখনও কিংবদন্তি গিয়ের্মো স্টাবিলের দখলে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও রানার্সআপ এই কিংবদন্তি দুই দফায় ১২৫টি ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন।
তার প্রথম মেয়াদ ছিল ১৯৩৯ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত—মোট ১৯ বছর। এই সময়ে তিনি ১১৫টি ম্যাচে ৭৭টি জয় পান। পরে ১৯৬০ সালে আরও ১০টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে জয় আসে ছয়টিতে।
সময়ের হিসেবে স্কালোনির চেয়ে এগিয়ে আছেন আরেক বিশ্বকাপজয়ী কোচ সেসার লুইস মেনোত্তি। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন তিনি। এ সময়ে তার অধীনে দল খেলেছিল ৮১টি ম্যাচ, জিতেছিল ৪৩টিতে।
শিরোপার সংখ্যায় স্কালোনির চেয়ে স্টাবিলে এখনও এগিয়ে। তার ঝুলিতে রয়েছে ছয়টি দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ (বর্তমান কোপা আমেরিকা), দুটি প্যান আমেরিকান গেমসের স্বর্ণপদক এবং একটি প্যান আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ।
তবে বিশ্বকাপে স্কালোনির সাফল্য অনেক বড়। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনাকে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে টানা তিন জয় এনে নকআউট পর্বে তুলেছেন। অন্যদিকে স্টাবিলে মাত্র একটি বিশ্বকাপে (১৯৫৮, সুইডেন) আর্জেন্টিনাকে কোচিং করিয়েছিলেন, যেখানে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্কালোনির প্রথম ৯৯ ম্যাচের কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
স্কালোনির অধীনে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল (৮৯)। এরপর রয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ (৭৯) এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি (৭৭)।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ডি পল বলেন, তিনি (স্কালোনি) আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখা যায়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা শুধু ফুটবলার নই, আমরা মানুষ, যারা ফুটবল খেলি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের পেছনে একজন মানুষ রয়েছে, যার নিজের সমস্যা, আনন্দ আর হতাশা আছে। কোচ যখন সেটি উপলব্ধি করেন, তখন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি অনেক বেশি স্বস্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেন।
আরেকটি পরিসংখ্যানেও নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির অধীনে তিনি ৭৪টি ম্যাচ খেলেছেন, যা তালিকায় পঞ্চম সর্বোচ্চ। তবে গোলের দিক থেকে তিনি সবার অনেক ওপরে। এই সময়ে মেসি ৫৮টি গোল করেছেন, যা আর্জেন্টিনার হয়ে তার মোট ১২৩ গোলের প্রায় অর্ধেক। স্কালোনি যুগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা লাউতারো মার্তিনেজ (৩৮) এবং তৃতীয় হুলিয়ান আলভারেজ (১৪)। দুইজনের গোল মিলিয়েও মেসির গোলসংখ্যা ছুঁতে পারেনি।
আরআর/এমএমআর








