রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি হয়।

এ ঘটনায় আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের নির্দেশনায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজারীবাগ থানাধীন সোনার বাংলা মুরগির আড়তের পাশের বেড়িবাঁধ সড়কে আকস্মিক মিছিল বের করেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও অপপ্রচার চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে হাজারীবাগ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫) ও মো. সুমন (২২) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মামলায় শাহীন আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম (৪৫), মো. সুমন (২২), মো. রানা (২৬), কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের নেতা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি গাজী মাসুম বিল্লাহ জুয়েল (৩০) ও সাধারণ সম্পাদক জসিম আহমেদ নিরব (৩২), কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা (৩০), কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফ হোসেন শরীফ (৩২), সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন (৩৪) ছাড়াও আবু আলেম মোল্লা রানা (৪৩), কেরানীগঞ্জ মডেল থানা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি রোমান আহমেদ (২৫), সরকারি ইস্পাহানি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি একরাম (২৪), একই কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালাম শেখ (৫৫), বাড়ৈখালী ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।

পুলিশ জানায়, ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৭, ৮, ৯, ১১ ও ১২ ধারায় হাজারীবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের দাবি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে এই আকস্মিক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে। তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন।