কক্সবাজারে বন্যাদুর্গত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বিজিবি নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলির পাড়া, আবাসন প্রকল্প ও মোরারপাড়া গ্রামের ৫০০ জনকে রান্না করা খাবার এবং ৫১০টি পরিবারের মাঝে ৫১০ প্যাকেট শুকনা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতি প্যাকেট শুকনো খাদ্যসামগ্রীর মাঝে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, এক লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি চিড়া, ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম গুড়, ৫০০ গ্রাম লবণ, ১০০ গ্রাম হলুদ এবং ১০০ গ্রাম মরিচ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির।
ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। নৌকায় করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে এসব খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্ব। দুর্যোগ মোকাবিলায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যাদুর্গত মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিজিবির উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গত একসপ্তাহ ধরে মাতামুহুরী নদী তীরবর্তী চকরিয়া ও পেকুয়ায় বৃষ্টির পানিতে প্লাবন চলছে। বাড়ি-ঘর বুক সমান পানিতে ডুবে থাকায় সিংহভাগ পরিবার রান্না করতে পারছে না। ফলে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকটে রয়েছে বন্যা দুর্গতরা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ত্রাণ দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধস দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে প্রায় ১৭জন।
সায়ীদ আলমগীর/কেজে/এসআর







