চলাচলের নেই কোনো রাস্তা। যাতায়াতে ভরসা নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো আর অন্যের কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে হয় গ্রামবাসীর। এতে প্রাণহানিসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। এমনই দুর্ভোগের শিকার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মহিষবান্দী গ্রামের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পূর্বপাড়া (দ্বীপ) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের চরম ভোগান্তির এমন দৃশ্য। ঘাঘট নদীর ওপর ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিশু-শিক্ষার্থীসহ নানান বয়সের মানুষ। ওপারে পৌঁছে নেই কোনো রাস্তা। বাধ্য হয়ে কৃষকের জমির আইল দিয়ে হেঁটে উঠতে হয় মূল সড়কে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহিষবান্দী পূর্বপাড়া স্থানে কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছে। এখানকার সবগুলো পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছে। এসব পরিবারকে অন্যের জমির আইল দিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে প্রধান সড়কে যেতে হয়।

খাল পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

তৎকালীন বাড়িগুলোর তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে ছিল না কোনো নদী। এরই মধ্যে বছর দুয়েক আগে অব্যাহত ভাঙনে এখন বসতভিটার চারপাশে বয়ে গেছে নদীটি। একপর্যায়ে দক্ষিণ পাশে বিশাল খালে পরিণত হয়েছে। যে কারণে নদীবন্দি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই নদীর পানি কানায় কানায় ভরে গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

স্থানীয় মিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‌‘প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। এতে করে সময় নষ্টসহ ঝুঁকিতে থাকতে হয় জীবনের ভয়ে। এরইমধ্যে সাঁকো থেকে পড়ে আজিজার রহমান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এখানে একটি রাস্তা ও সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

খাল পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

স্কুলছাত্র ওমর ফারুক মিয়ার (১২) ভাষ্য, ‘স্কুলে যেতে ভাঙা সাঁকো পার হতে খুব ভয় লাগে। একদিন পড়ে গিয়ে পা কেটে গেছে। তাই স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে করে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফুল মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ঢোকার রাস্তা ও ব্রিজ না থাকায় রাতের বেলা মাঠ দিয়ে হেঁটে বাড়িতে ঢুকতে হয়। ছেলে-মেয়েদের বিয়েশাদি করানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে কেউ সম্বন্ধ করতে চায় না।’

খাল পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে ইউএনওর সঙ্গে দ্বীপ এলাকাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রাস্তা ও সেতু নির্মাণ দরকার। বিষয়টি সংশ্লিদের আবারও জানানো হবে।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, ‘ওই এলাকায় রাস্তা, সেতুর সমস্যা রয়েছে। তবে বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আনোয়ার আল শামীম/এসআর/জেআইএম