শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ঘিরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের মেয়র আলী রেজা যাকানি বলেছেন, রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় প্রধান শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। যদি এই সংখ্যা বাস্তবে কাছাকাছিও পৌঁছে, তাহলে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকসমাবেশগুলোর একটি হিসাবে বিবেচিত হবে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল, তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুধু তেহরান নয়, ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদায় আয়োজন করা হচ্ছে। ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৬ জুলাই রাজধানীতে প্রধান শোকযাত্রা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই কোমে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান, ৮ জুলাই ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোকানুষ্ঠান এবং ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারের কাছে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। সমাবেশে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শত শত আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন। দুই কোটির সমাবেশের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে তেহরানে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা। তেহরান ট্রাফিক পুলিশের প্রধান সাইয়্যেদ আবুলফজল মুসাভিপুর জানিয়েছেন, রাজধানীর ১৪টি প্রবেশপথে প্রায় ১২ লাখ পার্কিং স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহাসড়ক, সরকারি ও বেসরকারি পার্কিং এলাকা এবং খোলা জায়গাগুলোকে অস্থায়ী পার্কিং হিসাবে ব্যবহার করা হবে। আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মেট্রো ব্যবহার করবেন, যা সংখ্যায় ৫০ লাখেরও বেশি। মেট্রোর সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণের জন্য শত শত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।