জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দায়ের হওয়া খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এ-সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারিসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।
পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় জামিন পাওয়ায় এ বি এম খায়রুল হকের মুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
গত ২১ জুন এ মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সালেকীন হাবিব বাপ্পি এ আদেশ দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় গত ২৩ মে খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী খোবাইব। সেদিন সকালে যাত্রাবাড়ী ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে খোবাইব গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
শুনানিতে খায়রুল হকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী মোনায়েন নবী শাহীন। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন গত ২০ মে বহাল রাখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এছাড়া আরও পাঁচটি মামলায় তার জামিন বহাল রয়েছে। তবে নতুন এ মামলায় জামিন না পাওয়ায় তিনি কারাগারেই থাকছেন।
এফএইচ/এমএএইচ/







