কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলে এসে তুরাগ নদে নিখোঁজ হওয়া ‘আরেফিন’ নামের একজনের লাশ পাওয়া গেছে—এমন একটি দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগেও ঢাকার তুরাগ নদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজনের লাশ ভেসে ওঠার দাবিতে ছড়ানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

গতকাল ২৯ জুন ‘𝐇.𝐌 𝐒𝐚𝐢𝐟𝐮𝐥𝐥𝐚𝐡’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘তুরাগ ট্রাজেডির আরেক জনের লা*শ পাওয়া গেছে। আরেফিনের লা*শ।’ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির ভেতর ‘আরেফিনকে পাওয়া গেছে ৬ দিনের মাথায়’ লেখা একটি টেক্সটও দেখা যায়।

আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (২৩ জুন) উপলক্ষে আয়োজিত কোনো মিছিলে ‘আরেফিন’ নামে কারও লাশ উদ্ধারের খবর মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

পরে প্রচারিত ভিডিওর ভেতরে থাকা ‘আরেফিনকে পাওয়া গেছে ৬ দিনের মাথায়’—এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’-র ওয়েবসাইটে গত ২৪ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বান্দরবানে গত ১৯ জুন বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা শেষে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায় শিশু আরেফিন। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ২৪ জুন সকালে স্থানীয়রা নদীতে তার মরদেহ ভাসতে দেখে।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাঙ্গু নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ শিশু আরফিনের বলে স্বজনেরা শনাক্ত করেন।

এ ছাড়া দেশের আরও কয়েকটি (, ) গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘Songbad Diganta’ এবং ‘দৈনিক আজাদী’- এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গত ২৪ জুন শেয়ার করা দুটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওগুলোর দৃশ্যের সঙ্গে এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওর ক্যাপশনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর তথ্যেরও মিল রয়েছে।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সম্প্রতি ফেসবুকে দাবি করছেন, গত ২২ জুন ঢাকার তুরাগ নদী থেকে ৪ জন ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের দাবি, দলীয় কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে নৌপুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিলে সাতজনকে নদীতে ফেলে দেয়। কথিত এই ঘটনাকে ‘তুরাগ ট্র্যাজেডি’ নামে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিন্ন ঘটনার একাধিক ভিডিওও ‘তুরাগ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।

এর আগেও তুরাগ নদে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য বলে প্রচারিত দাবিকে গুজব হিসেবে শনাক্ত করেছে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম।

আওয়ামী লীগের মিছিলে এসে তুরাগ নদে ঢুবে নিখোঁজ হওয়া আরেফিনের লাশ পাওয়ার দাবিটি বানোয়াট। বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে পা পিছলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের শিশু আরহাম আরফিন নোহানের লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।