তিন বছরের বেশি সময় ধরে মহিলা কলেজ সড়ক এবং ট্রাফিক মোড় থেকে হায়দরগঞ্জ সড়কের নর্দমা পর্যন্ত খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছে রায়পুর পৌরসভা। ধীরগতির কাজ ও বারবার সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দারা। এছাড়া ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক পিলার রেখেই নতুন ড্রেন নির্মাণ ও সড়কের কাজে চলছে। রায়পুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার কয়েকটি এলাকা এখন দুর্ভোগের আরেক নাম। প্রায় প্রতিটি সড়কেই চলছে পৌরসভার প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ি। কিছু সড়ক আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও বিশাল খননযন্ত্র দাঁড়িয়ে আছে আর কোথাও ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও পিচঢালাই নেই। ফলে বাসিন্দা এবং পথচারীদের জন্য চলাচল হয়ে উঠেছে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রায়পুর শহরের ট্রাফিক মোড় থেকে হায়দরগঞ্জ সড়কের মডেল মসজিদ পর্যন্ত ও মধুপুর গ্রামসহ সব সড়কই খানাখন্দে ভরে গেছে। পৌরসভার প্রকল্পের কাজের জন্য মহিলা কলেজ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া আরও চারটি সড়কের একাংশ বন্ধ। কয়েকটি এলাকায় প্রবেশের সড়কও বেহাল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের মার্চ মাসের দিকে কয়েকটি এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করে পৌরসভা। এর আগেও সড়কগুলোতে প্রায়ই পানি উঠত। তবে ওই সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির পর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি দুর্ভোগ। পানি কম উঠলেও ভাঙা রাস্তায় চলা মুশকিল। দূর থেকে শিক্ষার্থীদেরও হেঁটে আসতে হয়। বিকল্প পথ দিয়ে ঘুরে আসতে সময় বেশি লাগে। ২০২৩ সালে ‘পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন’ শীর্ষক প্রথম প্রকল্প অনুমোদন পায় একনেক সভায়। এরপর আরও কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে পৌরসভা। পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুরো শহরকে ছয়টি অঞ্চল বা ক্যাচমেন্টে ভাগ করা হয়। শহরের ১১তলাবিশিষ্ট গাজি কমপ্লেক্সের রাস্তার কাজ, দেনায়েতপুর (পোস্ট অফিস সড়ক), কাঞ্চনপুর (টিএনটি সড়ক), মধুপুরসহ (মহিলা কলেজ সড়ক) কয়েকটি ক্যাচমেন্টের আওতায় এলাকা। মহিলা কলেজ সড়কের প্রায় পুরোটা বন্ধ করে চলছে পৌরসভার পয়োঃনিষ্কাশন প্রকল্পের কাজ। এতে যাতায়াতে ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা।। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু সমান জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে নতুন ভোগান্তি পাঁচটি সড়কে এ খোঁড়াখুঁড়ি। হুটহাট দেখা যায় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য সড়ক ধরে ঘুরে আসতে সময় লাগে বেশি। মসজিদ, হাসপাতালে যাওয়ার সড়কগুলোর অবস্থাও বেহাল। অন্তত সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। রায়পুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুন্নবি বলেন, পৌরসভার অধীনে প্রকল্পের আওতায় নতুন বাজার থেকে মহিলা কলেজ এবং থানার মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত দুটি আধুনিক ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। নতুন বাজার-মহিলা কলেজ অংশের তিনটি প্যাকেজে প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ট্রাফিক মোড়-নর্দমা অংশে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নতুন বাজার থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটি আংশিক কাজ করে প্রায় তিন কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেছে। এরপর থেকে কাজ প্রায় বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, আর খোলা ড্রেনে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। থানার মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের বিরুদ্ধেও শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ করায় পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে ফেলে রাখা কাজে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছে। ড্রেন খননের কারণে অনেক জায়গায় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও নিরাপত্তা ব্যারিকেড নেই, নেই সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। রাতে এবং বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ প্রতিদিন হাজারও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কয়েকটি সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করছে। এসব কারণে কয়েকটি সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংস্কার করা যাচ্ছে না। পৌরসভার প্রশাসক (ইউএনও) মেহেদি হাসান কাউছার বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ট্রাফিক মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত ইটের কংকর দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হচ্ছে। বর্ষার জন্য কয়েকটি কাজ বন্ধ আছে। বর্ষা শেষ হলেই কাজ করা হবে। যেসব সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে, সেগুলোও পিচঢালাই দেওয়া হবে।