খুলনার লবণচরায় ধর্ষণের পর ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যা এবং একই সময়ে তার বাবা হত্যার ঘটনায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং ধর্ষণ মামলায় ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আল আসাফুর আলী রাজা, মো. নাজিমুদ্দীন ও মো. মাহমুদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক।
আরও পড়ুন
জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের এখন কী হবে, অতীত কী বলছে?
২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা এলাকার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ পাড়ায় ঢাকাইয়া হাউজে বাবা ইলিয়াস চৌধুরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাদের মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে লবণচরা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন পারভীনের ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব। মামলার তদন্ত পর্যায়ে গ্রেফতার করা হয় আসামি মো. লিটনকে। গ্রেফতারের পর আসামি লিটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে উঠে আসে হত্যার আগে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীনকে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার বুলিংয়ে বিপর্যস্ত নারী শিক্ষার্থীরা
এই জবানবন্দির পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় ঘটনার চারদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আরেক মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলার বিচার হয় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ। সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১৯ সালে দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়।
রায়ে পারভীনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি মো. লিটন, সাইফুল ইসলাম পিটিল, আবু সাঈদ, আজিজুর রহমান ওরফে পলাশ ও শরিফুল আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে সব আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন।
এফএইচ/কেএসআর








