খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা এবং ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তবে, ধর্ষণ মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাসেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হলো।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনা শহরের লবণচরা বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার আব্দুল জলিলের দুই ছেলে পিটিল ও শরিফুল, একই এলাকার মৃত শিকদারের ছেলে পলাশ, অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ ও লিটন। আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।
২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক, বর্তমানে খুলনা মহানগর দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান দুই মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্সে এবং আসামিদের আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় দেয়।
বাদীর পক্ষের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘‘এ রায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচারের পথ কখনো কখনো দীর্ঘ হয়, কঠিন হয়, কিন্তু আইনের প্রতি আস্থা ও ধৈর্য ধরে সেই পথ চলতে হয়। হাইকোর্টের রায়কে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছি।’’
২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া এলাকার ‘ঢাকাইয়া হাউস’-এ সংঘবদ্ধভাবে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর তাকে এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গুমের চেষ্টা চালানো হয়। নিহত পারভীন সুলতানা এক্সিম ব্যাংকের খুলনা কালীবাড়ী শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।








